সংকটে আইসিইউ-এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীনরা
লাইসেন্স বাতিলের পর আদ্-দ্বীন ছাড়ছেন রোগীরা
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণার পর হাসপাতালটি থেকে রোগীরা অন্যত্র সরে যেতে শুরু করেছেন। মাত্র একদিনের ব্যবধানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৭৩ জন কমে গেছে। বর্তমানে সেখানে ভর্তি রয়েছেন ২৪৩ জন রোগী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং অনেকে দ্রুত হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেন।
তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জটিল ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের পরিবার। স্বল্প খরচে আইসিইউ, এইচডিইউ ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল অনেক পরিবার এখন বিকল্প খুঁজে হিমশিম খাচ্ছে।
রোগীদের স্বজনরা বলছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মতো কম খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইসিইউ ও এইচডিইউতে থাকা রোগীদের হঠাৎ স্থানান্তর করাও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মানবিক বিবেচনায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫০ জন শিশু। এছাড়া আইসিইউ ও এইচডিইউতে ভর্তি আছেন আরও ১৩ জন রোগী। সব মিলিয়ে হাসপাতালটিতে প্রায় ৭০ জন মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ অবস্থায় রোগীদের জীবন রক্ষার স্বার্থে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে তিন মাস সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে, রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার হাসপাতালটিতে সংশ্লিষ্ট কোনও প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীদের স্বজনরা।
তাদের অভিযোগ, সংকটময় পরিস্থিতিতে রোগী স্থানান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সরকারি সহায়তা না থাকায় পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে নবজাতক ও সংকটাপন্ন রোগীদের নিরাপদে অন্য হাসপাতালে নেয়া নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে হাসপাতালটির ভবিষ্যৎ এবং সেখানে চিকিৎসাধীন শতাধিক রোগীর ভাগ্যে কী ঘটবে, তা এখন সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























