রংপুরের চার খুনে ডিএনএ মিললো সিদ্ধার্থ-মুগ্ধর
রংপুরে আলোচিত চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতের সঙ্গে মিলে গেছে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের দাবি, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে হত্যাকাণ্ডে দুই আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের কাছ থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর সেসব নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার সিআইডির ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা শেষে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামতের সঙ্গে দুই আসামির নমুনার মিল পাওয়া গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ যে বাড়িতে বসে খেজুর, শসা ও বিড়ি খেয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে, সেগুলোও আলামত হিসেবে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি ছোট-বড় আরও ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব আলামতের সঙ্গে দুই আসামির নমুনার মিল পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের নমুনার সঙ্গে উদ্ধার করা আলামতের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। ফলে চার খুনের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে পুলিশের আর কোনও সন্দেহ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে ডিএনএ পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এখনও পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এসব নথি হাতে পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।
এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতেও সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের নমুনা নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছিলো। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেও উদ্ধার করা আলামতের সঙ্গে নমুনার মিল পাওয়া যায় এবং চিকিৎসকদের মাধ্যমে পজিটিভ রিপোর্ট দেয়া হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুব রশিদও ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি শনাক্ত হয়েছে এবং সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—এ বিষয়ে পুলিশের কাছে এখন কোনও সন্দেহ নেই।
মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলামতের সঙ্গে দুই আসামির ডিএনএ মিলে যাওয়ায় রংপুরের আলোচিত চার খুনের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্তের বাকি প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
সবার দেশ/কেএম




























