বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় মেঘনার দুই সন্তান
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার দুই কৃতী সন্তান মো. আশরাফুল আলম ও মো. শফিউল্যাহ বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। তাদের এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে গর্বিত মেঘনাবাসী। গবেষণাক্ষেত্রে তাদের সাফল্যকে মেঘনা তথা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
মো. আশরাফুল আলম মেঘনা উপজেলার জয়পুর গ্রামের সন্তান। আর মো. শফিউল্যাহ চন্দনপুর ইউনিয়নের কৃতী সন্তান। দুজনের গবেষণাকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মেঘনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির তালিকায় মেঘনার দুই সন্তানের জায়গা করে নেয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। তাদের মতে, দেশের একটি উপজেলা থেকে বেড়ে ওঠা দুই সন্তান একই সঙ্গে বৈশ্বিক গবেষণার মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান পাওয়া শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পুরো মেঘনা উপজেলার জন্যও সম্মানের।
বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার যৌথভাবে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের তালিকা প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশ থেকে ৩৪৭ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৮৬ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তালিকায় বাংলাদেশের গবেষকের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ জন বা ২১ দশমিক ৩ শতাংশ। এবার দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষকেরা এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহ-লেখকদের গবেষণাগত প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়। ফলে এতে স্থান পাওয়া একজন গবেষকের কাজের আন্তর্জাতিক প্রভাব ও গবেষণার ধারাবাহিকতার একটি পরিমাপযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে তালিকাটি বিবেচিত হয়।
আশরাফুল আলমের দ্বিতীয়বার স্বীকৃতি অর্জনে উচ্ছ্বাস
মেঘনার জয়পুর গ্রামের সন্তান মো. আশরাফুল আলমও বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো স্থান করে নিয়েছেন। ২০২৬ সালের বাংলাদেশের গবেষকদের তালিকায় মুহাম্মদ আশরাফুল আলম নামে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষকের নামও রয়েছে। তার গবেষণাক্ষেত্র অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেঘনার দুই সন্তানকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক গবেষণায় ধারাবাহিকভাবে তাদের সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জ্ঞানচর্চায় আরও উৎসাহিত করবে।
মেঘনার শফি উল্যাহর স্বীকৃতি
মেঘনার চন্দনপুর ইউনিয়নের সন্তান মোহাম্মদ শফি উল্যাহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। ২০২৬ সালের তালিকায় তিনি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তার এ অর্জনের খবর প্রকাশের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেঘনার স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শফি উল্যাহর মতো একজন মেঘনার সন্তান আন্তর্জাতিক গবেষণা স্বীকৃতি অর্জন করায় স্থানীয়রা এটিকে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
মেঘনার গর্ব, বাংলাদেশেরও
স্থানীয়দের ভাষ্য, মেঘনা দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, শিক্ষা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় কৃতী মানুষের জন্ম দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক গবেষণার মতো প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে একই উপজেলার দুই সন্তানের এমন স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তাদের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে মেঘনার নাম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছানোকে এলাকার মানুষ নিজেদের অর্জন হিসেবেও দেখছেন।
মেঘনা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মো. আশরাফুল আলম ও মো. শফিউল্যাহকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ দুই গবেষক তাদের গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে দেশের সুনাম আরও বাড়াবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুই কৃতী সন্তানের এ সাফল্য মেঘনার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন স্বপ্নের জন্ম দেবে। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও যে অধ্যবসায়, গবেষণা ও মেধার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন—তাদের অর্জন তারই একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বিশ্ব দরবারে মেঘনার নাম আরও উজ্জ্বল হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন মেঘনাবাসীর।
মেঘনার এ দুই সন্তানের কৃতিত্বে ‘সবার দেশ’ পত্রিকা তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























