‘কামিকাজে ড্রোন ইউনিট’ প্রস্তুত
ইরানে হামলার জন্য ট্রাম্পের নির্দেশের অপেক্ষায় পেন্টাগন
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘কামিকাজে ড্রোন ইউনিট’ এখন প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। চূড়ান্ত নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সিদ্ধান্তের। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল আরাবিয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিটটির নাম টাস্কফোর্স স্করপিয়ন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরীক্ষামূলক ড্রোন ইউনিট থেকে বিকশিত হয়ে এখন পূর্ণাঙ্গ অভিযানের জন্য প্রস্তুত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড–এর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক ই-মেইল বিবৃতিতে জানান, গত বছর দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্কোয়াড্রনটি গঠন করা হয়।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন মাত্রা পায়। বর্তমান ড্রোন ইউনিটটিকে সে আঞ্চলিক শক্তির সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় চাপ বাড়াতেই এ সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পারস্য উপসাগরে ইউনিটটির একটি ড্রোন সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে। এটি উৎক্ষেপণ করা হয় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস সান্তা বারবারা–এর ফ্লাইট ডেক থেকে। জাহাজটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নিকটবর্তী এলাকায় মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবহরের সঙ্গে রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অ্যানা মিসকেলির মতে, এ ইউনিটের মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বহু মিলিয়ন ডলার দামের MQ-9 Reaper–এর মতো ব্যয়বহুল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তুলনামূলক কম খরচে কার্যকর ড্রোন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে ওয়াশিংটন।
সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, লো-কস্ট আনম্যানড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম বা ‘লুকাস’ ড্রোনের প্রতিটির দাম প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। অ্যারিজোনাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান SpektreWorks এসব ড্রোন তৈরি করে। হালকা ওজনের এ ড্রোন একমুখী হামলা, নজরদারি ও সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দীর্ঘ পাল্লা ও স্বয়ংক্রিয় পরিচালন সক্ষমতার কারণে এগুলোকে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ড্রোনগুলোর নকশা ইরানের শাহেদ–১৩৬ মডেল থেকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি। কামিকাজে ড্রোন ব্যবহারে রাশিয়া ও ইরান কয়েক বছর এগিয়ে থাকলেও, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে এসব ড্রোনের কার্যকারিতা দেখার পর যুক্তরাষ্ট্র ব্যবধান কমাতে সক্রিয় হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় ৪০ পাউন্ড বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা থাকলেও লুকাস ড্রোন ইরানের কঠোরভাবে সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাতের জন্য উপযুক্ত নয়। হাডসন ইনস্টিটিউট–এর বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর সাবেক কৌশলবিদ ব্রায়ান ক্লার্কের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, সড়ক নেটওয়ার্ক বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলের মতো অপেক্ষাকৃত কম সুরক্ষিত ও বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে এ ড্রোনগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























