বিপাকে পাঁচ হাজার নৌসেনা
ইরানমুখী মার্কিন রণতরীতে শৌচাগার সংকট
ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিচ্ছেন। কিন্তু ইরান নয়, এ মুহূর্তে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশাল রণতরীর নাবিকদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাহাজের অচল শৌচাগার।
১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford-এ থাকা প্রায় পাঁচ হাজার নৌসেনা এখন গুরুতর স্যানিটেশন সংকটে পড়েছেন। জাহাজটির ৬৫০টিরও বেশি শৌচাগার অচল হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। ফলে শত্রু দমনের প্রস্তুতির বদলে নৌসেনাদের সময় ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে প্লাম্বিং সমস্যার সমাধানে।
খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটির উন্নত প্লাম্বিং ব্যবস্থা এমনভাবে নকশা করা যে একটি অংশে ত্রুটি দেখা দিলে পুরো সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়ে। পাইপলাইনে টি-শার্ট ও দড়ি আটকে যাওয়ার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে আটকের মিশনে অংশ নেয় এ রণতরী। মিশন শেষে দেশে ফেরার কথা থাকলেও সেটিকে নতুন করে ইরানমুখী মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে টানা আট মাস সমুদ্রে অবস্থান করছে জাহাজটি, যা বাড়িয়ে ১১ মাস পর্যন্ত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন দৈনিক The Wall Street Journal-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে এক নৌসেনা জানান, দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং জাহাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্রুদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক তরুণ নৌসেনা মিশন শেষে নৌবাহিনী ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln, একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও লিটোরাল কমব্যাট শিপ। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড সেখানে পৌঁছালে একই অঞ্চলে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতি নিশ্চিত হবে—যা সচরাচর দেখা যায় না।
ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের এ প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও মানবিক চাপ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রস্তুতি ও বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে।
সবার দেশ/কেএম




























