রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ
ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলেই মার্কিন বাহিনী অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিষয়টি প্রকাশ পেলে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। গত সপ্তাহে ওমানে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে একই সময়ে ট্রাম্প বারবার ইরানে হামলার হুমকিও দিয়েছেন।
পেন্টাগনের অতিরিক্ত মোতায়েন
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র পাঠানো হচ্ছে। এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র দুইটি রণতরী পাঠিয়েছিল।
গত জুনে ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামে একটি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্টিলথ বোমারু বিমান উড়ে গিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। তবে এবারের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত ও জটিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, সম্ভাব্য হামলা কেবল পারমাণবিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান
সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, তেহরানকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে ‘সব অপশন’ খোলা আছে। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলিনায় এক সামরিক ঘাঁটিতে দেয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং কখনও কখনও ‘ভয় দেখানোই’ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার একমাত্র উপায়।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনারও ইঙ্গিত মিলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু—যা এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্কবার্তা দিয়েছে—তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে অঞ্চলে থাকা যেকোনও মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের হাতে বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য সংঘাতে মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি মার্কিন-ইরান সংঘাত শুরু হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি—দুই পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আলোচনার টেবিলে থামে, নাকি যুদ্ধের ময়দানে গড়ায়।
সবার দেশ/কেএম




























