Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এবার সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইরানের শিক্ষার্থীরা

এবার সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইরানের শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবারও সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন। গত মাসে কঠোর ও প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর এবারই প্রথম বড় পরিসরে বিক্ষোভের মুখোমুখি হলো দেশটির সরকার। শনিবার রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে কয়েকশ শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন। অনেকের হাতে জাতীয় পতাকা ছিল। তারা স্বৈরশাসনের অবসান দাবিতে স্লোগান দেন, যা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই স্থানে সরকারপন্থী একটি পাল্টা সমাবেশও হয় এবং পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতেও সরকারবিরোধী স্লোগানের দৃশ্য বিবিসি যাচাই করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের দাবিতে স্লোগান দেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। দিনের শেষভাগে আরও কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায় এবং রবিবার নতুন সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জানুয়ারিতে শুরু হওয়া গণআন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এ কর্মসূচিগুলো পালিত হয়। প্রথমদিকে আন্দোলন অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হলেও দ্রুত তা বিস্তৃত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই সবচেয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি হরানার দাবি, দমন-পীড়নে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ জন শিশু এবং ২১৪ জন সরকার-সম্পৃক্ত ব্যক্তি। সংস্থাটি আরও প্রায় ১৭ হাজার মৃত্যুর তথ্য যাচাই করছে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তাদের অধিকাংশই নিরাপত্তাকর্মী অথবা সহিংসতার শিকার সাধারণ নাগরিক।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমিত সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় কিছু অগ্রগতির কথা জানানো হলেও ট্রাম্প বলেছেন, সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যে স্পষ্ট হবে সমঝোতা হবে নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাসিত বিরোধীদের একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাইলেও দেশের ভেতরের অন্যান্য বিরোধী গোষ্ঠী বিদেশি সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রচারণার মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।

সবার দেশ/এফএস 

শীর্ষ সংবাদ:

থার্ড টার্মিনাল খুলছে কবে? দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা
বোরকা-মাস্ক পরে সমন্বয়ককে কুপিয়ে জখম
বাদ পড়ছেন আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম
দেড় বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন রাষ্ট্রপতি, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বিশ্বকাপে রেকর্ড ব্যবধানে ভারতের হার
৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো মালয়েশিয়া
কক্সবাজারে এমপি আলমগীর ফরিদের গাড়িবহরের চাপায় শিশুর মৃত্যু
চাঁদাবাজবিরোধী নতুন আন্দোলনের ডাক জামায়াত আমিরের
ট্রাম্পের বাড়িতে অস্ত্রসহ প্রবেশের চেষ্টা, গুলিতে একজন নিহত ১
ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক
চাঁদাবাজকে ধরে সড়কে ঘুরিয়ে পুলিশের মাইকিং
১৮ মাস পর ইউনূস সেন্টারে ফিরলেন ড. ইউনূস
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে শিশির মনির
জাহানারাকে হয়রানির অভিযোগে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল
শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের চেষ্টার সমালোচনা এনসিপির
সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে বড় রদবদল
নিষিদ্ধ দলের কোনও তৎপরতা চলতে দেয়া যাবে না: আইজিপি