ইরানি হামলার ভয়ে লাখ লাখ ইসরায়েলি বাঙ্কারে
দীর্ঘ কয়েক মাসের আপেক্ষিক শান্তির পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানের পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরো ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার সকালে দেশজুড়ে সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষ ঘর ছেড়ে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, ইরান থেকে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে। এর জেরে লাখো মানুষ বাঙ্কার, মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় আশ্রয় নেয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ সামরিক অভিযানকে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনে জরুরি পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন বিমান বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে ইরানের কয়েকটি কৌশলগত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে তেহরান থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ওপর চালানো হামলার জবাব দিতেই কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়, শনিবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৪০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই প্রতিহত করেছে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র খোলা স্থানে পড়লেও বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে। দেশজুড়ে বড় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও উৎসব বাতিল করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতেও নেয়া হয়েছে জরুরি প্রস্তুতি। তেল আবিব ও জেরুজালেমের বড় হাসপাতালগুলো তাদের জরুরি বিভাগ ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা বাঙ্কারে দেয়া হচ্ছে এবং সম্ভাব্য হতাহতের ঘটনা মোকাবিলায় চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছেন।
রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের জনজীবন প্রায় থমকে গেছে। যাদের নিজস্ব সুরক্ষিত কক্ষ নেই, তারা শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে মেট্রো স্টেশন বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক জায়গায় মানুষ একত্রিত হয়ে প্রার্থনা করছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে উত্তর ইসরায়েলে একজন বয়স্ক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর মেলেনি। তবুও উত্তেজনার পারদ দ্রুত বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহল সংযমের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
সবার দেশ/কেএম




























