Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৫৭, ৫ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের এক সপ্তাহেই চাপে পেন্টাগন

ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা: ওয়াশিংটন পোস্ট

ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা: ওয়াশিংটন পোস্ট
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এক সপ্তাহও পার হয়নি, এর মধ্যেই অত্যাধুনিক ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের মজুত নিয়ে চাপের মুখে পড়েছে পেন্টাগন। যুদ্ধের শুরুতে আগ্রাসী ভঙ্গিতে হামলা চালালেও এখন হিসাব কষে অস্ত্র ব্যবহার করার বাস্তবতায় পড়তে হচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে।

সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র যে হারে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার আঘাত হানার অস্ত্র ব্যবহার করছে, তাতে খুব শিগগিরই কোন লক্ষ্যবস্তু আগে রক্ষা করা হবে—তা নির্ধারণে কঠিন অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করতে হতে পারে ওয়াশিংটনকে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ মাত্রার হামলা টিকিয়ে রাখতে গেলে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ প্রয়োজন, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তার এমন মন্তব্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাই বাড়িয়েছে। একই সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাত এখনও আসেনি। তবে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন বলছে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন—ইতোমধ্যে শত শত আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD)-এর মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপুল সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ছোড়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সামরিক কমান্ড কাঠামো ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপকভাবে টমাহক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব অস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উৎপাদনও সময়সাপেক্ষ।

অন্যদিকে ইরানও থেমে নেই। বাহারাইন, কুয়েত, ইরাক, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হাজার হাজার ড্রোন ও শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কুয়েতে এক ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া রিয়াদ ও কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও হামলার শিকার হয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পেন্টাগনকে এখন শুধু আক্রমণ নয়, প্রতিরক্ষা নিয়েও নতুন করে কৌশল সাজাতে হচ্ছে। সীমিত মজুত নিয়ে কয়েক সপ্তাহ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনাও জোরদার হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে হয় আক্রমণের মাত্রা কমাতে হবে, নয়তো অস্ত্র ব্যবহারে কঠোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। আর সে সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ কেবল শক্তি প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতে রূপ নেবে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

৭ নভেম্বরের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে
বাংলাদেশকে অভিবাসনের গন্তব্য করতে চান স্পিকার
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটারদের রায়, শুরু পতনের অধ্যায়
সেন্টমার্টিনে আজ থেকে চলবে ৩ পর্যটকবাহী জাহাজ
নিশো-মেহজাবীনের ‘অপলক’
মেসি-রোনালদোসহ ২৬ তারকা ভোটযুদ্ধের মহড়ায়
ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানের ছেলে গুরুতর আহত
মেঘনা বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
ট্রাম্পকে ময়লার পাত্রে ফেললো ইরানি দূতাবাসের ভিডিও
হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক
তিতাসে নতুন দুই কূপ, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস
আমেরিকানরা ‘বিরক্ত’ হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়
কল্যাণপুরে বাস-লেগুনার সংঘর্ষ, নারীসহ নিহত ৪
আওয়ামী প্রেতাত্মা হাসানুজ্জামানকে দুদকের মহাপরিচালক নিয়োগ