‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ না কি ইরানি হামলা—রহস্যে ঘেরা ঘটনা
কুয়েতে তিন এফ-১৫ খুইয়ে চরম অপদস্ত যুক্তরাষ্ট্র!
কুয়েতে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত ও ইরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা ভুলবশত নিজেদের গুলিবর্ষণের ফল বলে দাবি করেছে। একই বক্তব্য এসেছে পেন্টাগন-এর দাফতরিক বিবৃতিতেও। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলে বিমানগুলো ভূপাতিত হয়েছে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ এ ব্যাখ্যায় অসংগতি খুঁজে পাচ্ছেন। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে বিমানগুলোর ইঞ্জিন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা সাধারণত তাপ-অনুসন্ধানী বা হিট-সিকিং ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য। অথচ কুয়েতের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট বা নাসামসের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাডার-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্যাট্রিয়টের সরাসরি আঘাতে পাইলটদের অক্ষত বেরিয়ে আসা অত্যন্ত বিরল—কিন্তু এ ঘটনায় ছয়জন ক্রুই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে মার্কিন ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ তত্ত্বের সরাসরি সমর্থন দেয়নি। তারা জানিয়েছে, ওই সময় আকাশে একাধিক ‘শত্রু লক্ষ্যবস্তু’ উপস্থিত ছিলো এবং কয়েকটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ বক্তব্য মার্কিন অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
একই সময়ে ওই অঞ্চলে ইরানি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির কথা মার্কিন প্রশাসন স্বীকার করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি উঠেছে। এতে সন্দেহ জোরদার হয়েছে—বিমানগুলো কি আসলে বিদেশি শক্তির হামলার শিকার?
তেহরানভিত্তিক খাতাম আল-আম্বিয়া এয়ার ডিফেন্স বেস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট একটি অনুপ্রবেশকারী মার্কিন এফ-১৫ ভূপাতিত করেছে। যদিও তারা একটি বিমানের কথা বলছে, কিন্তু একই দিনে তিনটি এফ-১৫ হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সামরিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বল্প পাল্লার আর-৭৩ বা আর-৭৪ ধরনের হিট-সিকিং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে, যা ইঞ্জিনভিত্তিক আঘাতের চিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
মার্কিন সামরিক ইতিহাসে ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একই দিনে এভাবে একাধিক যুদ্ধবিমান হারানো বিরল ঘটনা। যদিও প্রাণহানি হয়নি, তবু ঘটনাটি কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্যের ভিন্নতা ও বিভ্রান্তি অস্বাভাবিক নয়। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র দুটি সম্ভাব্য সংকটে পড়েছে—একদিকে মিত্র দেশের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার ব্যর্থতা, অন্যদিকে প্রতিপক্ষের সক্ষমতা অবমূল্যায়নের ঝুঁকি।
ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আরটি-সহ বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব।
সূত্র: আরটি
সবার দেশ কেএম




























