জ্বালানি ঘাটতির শঙ্কায় শ্রীলঙ্কায় সপ্তাহে তিন দিনের ছুটি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে। সম্ভাব্য তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিনে উন্নীত করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি বুধবারও সরকারি ছুটি থাকবে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম BBC জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান এর মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।
সোমবার এক জরুরি বৈঠকে অনুরা কুমারা দিসানায়েকে বলেন, দেশকে সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যদিও একই সঙ্গে ইতিবাচক সম্ভাবনার দিকেও নজর রাখতে হবে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হতো। গত বছর এ পথ দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পৌঁছেছিলো।
জ্বালানি সাশ্রয়ে শুধু শ্রীলঙ্কাই নয়, এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। থাইল্যান্ড-এ নাগরিকদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমাতে হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মিয়ানমার-এ ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোতে বিধিনিষেধ আরোপ করে লাইসেন্স নম্বর অনুযায়ী একদিন পরপর গাড়ি চালানোর নিয়ম চালু করা হয়েছে।
বাংলাদেশ-এও জ্বালানি সাশ্রয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নির্ধারিত লোডশেডিং চালু করা হয়েছে।
এদিকে ফিলিপাইন-এ কিছু সরকারি দফতরে সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র অপ্রয়োজনীয় সরকারি ভ্রমণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে ভিয়েতনাম সরকার নাগরিকদের ঘরে বেশি সময় থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি সাইকেল ব্যবহার, কারপুলিং এবং গণপরিবহনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় নতুন চার দিনের কর্মসপ্তাহের সিদ্ধান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও কার্যকর হবে। তবে স্বাস্থ্য, অভিবাসনসহ জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। সরকার জানিয়েছে, টানা তিন দিন ছুটি এড়াতে শুক্রবারের পরিবর্তে বুধবারকে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া দেশটিতে আবারও জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ নিবন্ধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার জ্বালানির সীমা নির্ধারণ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময়ও শ্রীলঙ্কা একই ধরনের জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিলো। সে সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পড়ে দেশটি জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে।
এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























