আমেরিকার জ্বালানিকেন্দ্র হবে ভেনেজুয়েলা: মাচাদো
নিকোলাস মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলা কেমন হবে—তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন দেশটির নোবেলজয়ী বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা ভবিষ্যতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানিকেন্দ্রে পরিণত হবে। একই সঙ্গে দেশটির বাজার উন্মুক্ত করা হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন মাচাদো। ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা থাকলেও প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় তিনি বিরোধী নেতা এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়াকে সমর্থন দেন।
সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন, একটি মুক্ত ভেনেজুয়েলা মানে প্রথমেই শক্তিশালী নিরাপত্তা মিত্র গড়ে তোলা। এমন মিত্ররা আমেরিকাস অঞ্চলে অপরাধচক্র ও অপরাধীদের কেন্দ্রগুলো ধ্বংসে ভূমিকা রাখবে। তার মতে, এসব অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের জনগণের জন্যই হুমকি।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি ভেনেজুয়েলাকে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন। তৃতীয় লক্ষ্য হিসেবে মাচাদো উল্লেখ করেন, যেসব ভেনেজুয়েলান নাগরিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তাদের আবার দেশে ফিরিয়ে আনা। এসব নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ও উন্মুক্ত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

গত মাসে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে নরওয়ে সফরে যান মারিয়া কোরিনা মাচাদো। এরপর থেকে তিনি আর ভেনেজুয়েলায় ফেরেননি। এদিকে নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করার ঘটনার পর গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে মাচাদো সম্পর্কে মন্তব্য করেন। সেখানে ট্রাম্প বলেন, মাচাদো দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত সমর্থন ও সম্মান পান না। যদিও তিনি তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবেই উল্লেখ করেন।
নিজের প্রাপ্ত নোবেল পুরস্কার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন মাচাদো। এ প্রসঙ্গে ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার বিশ্বাস ট্রাম্প এ স্বীকৃতির যোগ্য। তিনি আরও বলেন, গত শনিবার ট্রাম্প যা করেছেন, তা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব ছিলো এবং এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন তিনি আসলে কী বোঝাতে চান।
মাচাদো কবে ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই। এরই মধ্যে সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। কারাকাসে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে শপথ গ্রহণ শেষে তিনি মাদুরোকে তুলে নেয়ার ঘটনাকে অপহরণ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ ও মর্মবেদনা প্রকাশ করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরুর আগেই মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবিতে স্লোগান ও বক্তব্য দেয়া হয়। ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে এ ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা তৈরি করেছে।
সবার দেশ/কেএম




























