ইরানকে স্বর্ণালংকার ও অর্থ দিচ্ছে সাহায্য করছে কাশ্মীরবাসী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ। বিশেষ করে বুদগাম ও বারামুলা জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষ স্বর্ণ-রূপা, গয়না ও নগদ অর্থ দান করে ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বুদগামের খান্দা গ্রামের নারীরা নিজেদের স্বর্ণালঙ্কার দান করে এ উদ্যোগে সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন। তাদের ভাষায়, ইরানের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব।
ঈদুল ফিতরের পর থেকে শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করছেন। শুধু অর্থ বা গয়না নয়, অনেকেই গবাদিপশু ও ঐতিহ্যবাহী তামার সামগ্রীও দান করছেন, যা পরে নগদে রূপান্তর করা হচ্ছে।
সংগৃহীত এসব সহায়তা ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস-এর মাধ্যমে ইরানে পাঠানো হচ্ছে, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, নারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে গয়না জমা দিচ্ছেন এবং শিশুরাও তাদের ঈদের উপহার হিসেবে পাওয়া অর্থ দান করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে দানের পরিমাণ কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। এমনকি একজন আইনজীবী তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৩১ লাখ রুপি সংগ্রহ করে সহায়তা দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ মানবিক উদ্যোগে সমাজের সব স্তরের মানুষ অংশ নিচ্ছেন। নারী, পুরুষ ও শিশুর পাশাপাশি অনেকেই ব্যক্তিগত মূল্যবান স্মৃতিচিহ্নও দান করছেন। এক বিধবা নারী তার স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ২৮ বছর ধরে সংরক্ষিত একটি সোনার অলঙ্কার দান করেছেন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ উদ্যোগে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও সম্পৃক্ত হচ্ছেন। বুদগামের স্থানীয় এমএলএ মুনতাসির মেহদি জানিয়েছেন, তিনি ইরানের জনগণের সহায়তায় নিজের এক মাসের বেতন দান করবেন।
ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সহায়তার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে কাশ্মীরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এক বার্তায় তারা জানায়, মানবিক সহায়তা ও সংহতির জন্য কাশ্মীরের উদার মানুষের প্রতি তারা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিক দায়িত্ব। তাদের বিশ্বাস, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোরও এ ধরনের সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত।
ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, দূতাবাসের আহ্বানের পর গত এক সপ্তাহ ধরে কাশ্মীরজুড়ে এ ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংগৃহীত অর্থ ও সম্পদ যথাযথ প্রক্রিয়ায় ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।
সবার দেশ/কেএম




























