তেহরান টাইমসের প্রতিবেদন
‘নরকে স্বাগতম’—মার্কিন সেনা ঢুকলেই কফিনে ফেরার হুঁশিয়ারি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক Tehran Times প্রথম পাতায় ‘Welcome To Hell’ বা ‘নরকে স্বাগতম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—ইরানের মাটিতে কোনও মার্কিন সেনা প্রবেশ করলে তারা জীবিত ফিরবে না, কফিনে করেই ফিরে যেতে হবে।
এ হুঁশিয়ারির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক এক সামরিক আলোড়ন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। এ তথ্য প্রকাশের পরপরই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নয়, বরং সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশও হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তিনি যুদ্ধ চান না এবং ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, তবুও বাস্তবে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
এদিকে The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক কৌশল পুনর্গঠন করছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরও বিস্তৃত সামরিক বিকল্প দেয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত সেনাদের ইরানের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র Kharg Island অঞ্চলের আশপাশে অবস্থান করানো হতে পারে।
অন্যদিকে তেহরানের শীর্ষ এক কর্মকর্তা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সক্রিয় করবে। বিশেষ করে ইয়েমেনভিত্তিক হুতি বিদ্রোহীদের যুদ্ধক্ষেত্রে নামানো হতে পারে, যার ফলে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক নৌপথ আবারও অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সংঘাত নতুন একটি রণাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এর মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা থামার কোনও লক্ষণ নেই। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে ইরানপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি রয়েছে।
জবাবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। ফলে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এখন কেবল সীমিত হামলার মধ্যে নেই, বরং তা আঞ্চলিক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, একদিকে কূটনৈতিকভাবে শান্তির বার্তা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—এ দ্বৈত অবস্থানের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























