স্থলযুদ্ধের শঙ্কা ঘনাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেকাতে ইরানের ‘১০ লাখ যোদ্ধা’ প্রস্তুত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের আশঙ্কায় দক্ষিণ সীমান্তজুড়ে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতির দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি যোদ্ধাকে সংগঠিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল হামলাকে সামনে রেখে ইরানের বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
সামরিক সূত্রটি সতর্ক করে জানায়, ইরানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন স্থল অভিযান হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি যোদ্ধাকে সংগঠিত করার পাশাপাশি হাজার হাজার তরুণ বাসিজ, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার জন্য আবেদন করছে। এ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে তেহরান তাদের বড় কৌশলগত শক্তি হিসেবে দেখছে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রণালি খোলা রাখতে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত। প্রয়োজনে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেও অটল থাকতে পারে তেহরান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করা হয়।
এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলে এক অনিশ্চিত যুদ্ধ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতির উপরও।
সূত্র: তাসনিম নিউজ
সবার দেশ/কেএম




























