চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা
ইরানে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি পেন্টাগনের
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হতে যাচ্ছে। ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। তবে এ পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দেবেন কি না—তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অবস্থানকে কেন্দ্র করে।
বিবিসি-এর প্রতিবেদনে, যা ওয়াশিংটন পোস্ট-এর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি, বলা হয়েছে—এ পরিকল্পনা কোনও পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন নয়। বরং বিশেষায়িত বাহিনী ও পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে সীমিত আকারের দ্রুতগতির অভিযান (রেইড) চালানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসরমান যুদ্ধজাহাজগুলোতে ৪ হাজারের বেশি মেরিন সেনা অবস্থান করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন প্রস্তুত রাখা হয়েছে, প্রয়োজনে দ্রুত মোতায়েনের জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এ স্থল অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা যুদ্ধের নতুন ও আরও বিপজ্জনক অধ্যায় তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং শক্ত প্রতিরোধের মুখে মার্কিন বাহিনীকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে খার্গ দ্বীপ, যা হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত। ইরানের অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এ দ্বীপের মাধ্যমেই রফতানি হয়। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এ কৌশলগত অঞ্চলকে টার্গেট করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানের সময়কাল নিয়েও মতভেদ রয়েছে। কেউ বলছেন কয়েক সপ্তাহ, আবার কেউ মনে করছেন পরিস্থিতি জটিল হলে তা কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস-এর প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্ব হলো সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা, যাতে প্রেসিডেন্ট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এ প্রস্তুতি মানেই চূড়ান্তভাবে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে—এমন নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান এ উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























