মার্কিন স্থল সেনাদের জন্য ‘নরক’ তৈরি করছে ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরান তার খারগ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে মার্কিন স্থল বাহিনীকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত করছে। এ দ্বীপ ও জলপথ ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন, যেখানে দেশটির ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি হয় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব বাজারে ৩০ শতাংশ জ্বালানি পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান উপকূল থেকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও আইইডি-এর মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের ওপর সরাসরি হামলা চালাতে পারে। খারগ দ্বীপে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের উপস্থিতি ও প্রাকৃতিক ভূখণ্ডের প্রতিরোধ ব্যবস্থা এটিকে কার্যকর ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে পরিণত করছে।
ইরান এছাড়াও উপসাগরীয় তেল কেন্দ্র, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বন্দর-আঞ্চলিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন-ইসরাইলি আক্রমণের উত্তরে ইরানের সমর্থিত প্রোক্সি গোষ্ঠী—হিজবুল্লাহ, ইরাকি মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুথি—ও আক্রমণ বৃদ্ধির সক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালিতে তারা নৌ চলাচল ব্যাহত করতে পারে, যা বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপ বা হরমুজে স্থল অভিযান চালায়, তবে ইরান ও তার অনুগত গোষ্ঠী দুই ভিন্ন ফ্রন্টে মার্কিন সেনাদের মোকাবিলা করবে। ফলে মার্কিন স্থল বাহিনীর জন্য এটি কার্যত একটি ‘নরক’ হিসেবে পরিণত হবে, যেখানে সরাসরি হুমকি, অনিয়মিত হামলা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ একসঙ্গে কাজ করবে।
সূত্র: দ্য হিল
সবার দেশ/কেএম




























