যা নিতে পারেনি যুদ্ধক্ষেত্রে, বৈঠকে তা-ই চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধে হেরে আলোচনার টেবিলে আবদার যুক্তরাষ্ট্রের—অভিযোগ ইরানের
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার নাটকীয় আলোচনার পরও কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে চুক্তিহীনভাবে, ফলে দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ ব্যর্থতার কারণ তুলে ধরেছে। ইরানি প্রতিনিধি দলের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের গভীর মতবিরোধই আলোচনাকে অচল করে দেয়।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত চাপিয়ে দিতে চেয়েছে, যা ইরানের কাছে অগ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার দাবিকে তেহরান ‘অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ হিসেবে দেখছে।
ইরানি সূত্রের ভাষায়,
যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে পারেনি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে বসে সেটিই কৌশলে আদায় করতে চেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে এ সংকট নিরসনে ২১ দিনব্যাপী ধারাবাহিক সংলাপ হয়, কিন্তু সেখানেও কোনও অগ্রগতি হয়নি।
সে সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক তৎপরতা চালায়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
ক্রমবর্ধমান সংঘাত ঠেকাতে গত ৭ এপ্রিল উভয় পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। সে যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশ। কিন্তু দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠকেও পারস্পরিক অনাস্থা ও কঠোর অবস্থানের কারণে কোনও চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ব্যর্থতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল। এখন নজর থাকবে—দুই পক্ষ নতুন করে আলোচনায় ফিরবে, নাকি আবার সংঘাতের পথে হাঁটবে।
সবার দেশ/কেএম




























