আলোচনার আগে ইরানের জব্দ অর্থ ছাড়তে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ ছাড়তে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া নতুন দফার শান্তি আলোচনার আগে এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে তেহরান।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance–এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। এ বৈঠকের আগে ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি সূত্র জানিয়েছে, এ অর্থ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিলো। ফলে আলোচনায় এ বিষয়টি অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হয়ে উঠেছে।
আরেকটি ইরানি সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অর্থ কাতারের ব্যাংকগুলোতে আটকে ছিলো। তবে ঠিক কত অর্থ ছাড় হবে, কী শর্তে ছাড় হবে এবং কখন তা কার্যকর হবে—এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এ অর্থ জব্দের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে জমা থাকা ইরানের তেল বিক্রির বিপুল অর্থ আটকে যায়। একই সময়ে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকেও ওয়াশিংটন সরে দাঁড়ায়।
পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়। সে চুক্তির আওতায় পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে ইরান মুক্তি দেয় এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকেও ছেড়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দ অর্থ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়।
তখন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিলো, এ অর্থ কেবল মানবিক কাজে ব্যবহার করা যাবে—যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনায়। পুরো ব্যয় প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের নজরদারিতে থাকার কথা ছিলো।
কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন আবারও অর্থ ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করে এবং কার্যত তা পুনরায় স্থগিত করে দেয়।
বর্তমানে ইসলামাবাদে চলমান আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যদি এ অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























