কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ এ সম্পদ
ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে যেখানে!
বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের শত শত বিলিয়ন ডলার এখন আবার আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত ও পরবর্তী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এ অর্থ মুক্তির বিষয়টি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে আটকে থাকা এ অর্থ ইরানের জন্য শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, বরং সংকট কাটিয়ে ওঠার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
কত অর্থ আটকে আছে?
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের আটকে থাকা সম্পদের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হলেও ধারণা করা হয়, এটি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির পর ইরান কিছু অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পেলেও ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে সরে এসে পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বড় অংশের অর্থ আবারও আটকে যায়।
এছাড়া ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারের মাধ্যমে স্থানান্তরের একটি সীমিত উদ্যোগ নেয়া হয়, যা মূলত মানবিক খাতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিলো।
কোন কোন দেশে আটকে আছে অর্থ
নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতার কারণে ইরানের অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো—
- দক্ষিণ কোরিয়া
- জাপান
- চীন
- ভারত
- তুরস্ক
- সংযুক্ত আরব আমিরাত
- সিঙ্গাপুর
- জার্মানি
- এবং হংকংয়ের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান
বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে ইরানের তেল রফতানির বড় অংশের অর্থ দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কীভাবে এ অর্থ আটকে গেলো
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে প্রথম বড় ধাক্কা আসে। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ইরানের প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেন।
এরপর ধাপে ধাপে—
- পরমাণু কর্মসূচি
- ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন
- এবং সন্ত্রাসে সমর্থনের অভিযোগ
এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার ফলে ইরানের বৈদেশিক সম্পদ আরও বড় পরিসরে আটকে যায়।
২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা এ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে, এবং আগের আংশিক মুক্ত অর্থও আবার সীমিত হয়ে যায়।
কেনো এ অর্থ এতো গুরুত্বপূর্ণ
ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে আছে।
ফলে বিদেশে আটকে থাকা এ সম্পদ ইরানের জন্য—
- আমদানি সচল রাখা
- মুদ্রা স্থিতিশীল করা
- এবং অর্থনৈতিক চাপ কমানোর
একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ অর্থ মুক্তির বিষয়টি ভবিষ্যৎ কোনও সমঝোতা বা শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে ‘কৌশলগত চাবিকাঠি’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
ইসলামাবাদে চলমান আলোচনা
বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনায় ইরান এ অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পুরোপুরি এ বিষয়ে কোনও ছাড়ের ঘোষণা দেয়নি।
ফলে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক দরকষাকষির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























