ইরান যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রে ফতুর যুক্তরাষ্ট্র, পূরণে লাগবে বহুবছর
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। এতে ভবিষ্যৎ সংঘাতে গোলাবারুদের ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, প্রায় সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত THAAD সিস্টেমের অন্তত অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
এছাড়া পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নেও এ তথ্যের মিল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যুদ্ধের আগে ও পরের তুলনায় দেখা যায়, টমাহক মিসাইলের প্রায় ৩০ শতাংশ, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ মিসাইলের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের শুরুতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও এ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুনরায় পূরণ করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় সাময়িক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের থাকলেও সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী—যেমন চীন—এর সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে বর্তমান মজুত যথেষ্ট নাও হতে পারে।
এদিকে, শন পার্নেল দাবি করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য—যুক্তরাষ্ট্র কোনও অস্ত্র সংকটে নেই—এর সঙ্গে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তার কিছুটা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ক্যাপিটল হিলে ডেমোক্র্যাট নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্ক কেলি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের কাছে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যেও পড়তে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























