বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক নাটক ‘বদলে যাবার দিন’
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পথনাটক ‘বদলে যাবার দিন’ মঞ্চস্থ হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে নাটকটি অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি (সেলপ) এ আয়োজন করে।
নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরা হয়। এতে দেখানো হয়, অপরিণত বয়সে বিয়ে কিশোরীদের শিক্ষাজীবনে বাধা সৃষ্টি করে, স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করে এবং মাতৃস্বাস্থ্যসহ নানা ধরনের জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়, এমন সিদ্ধান্ত শুধু একটি মেয়ের স্বপ্ন, মেধা ও সম্ভাবনাকেই সীমাবদ্ধ করে না; বরং পরিবার ও সমাজের অগ্রযাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করে।
নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের জানানো হয়, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সন্তানদের সুশিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে কিশোরী মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি, তাদের মতামতের মূল্যায়ন এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা অফিসার (সেলপ) মারিয়া আক্তার বলেন, বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়; এ জন্য পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা অপরিহার্য। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা, সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং সামাজিক পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
নাটকটি দেখতে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশনা শেষে অনেক দর্শক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, প্রতিটি শিশুর অধিকার রয়েছে নিরাপদ শৈশব, শিক্ষা এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাওয়ার। তাই বাল্যবিবাহ নয়, শিক্ষা ও সচেতনতাই হতে পারে একটি সুন্দর ও উন্নত সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর পথ।
নাটকটিতে উপস্থিত ছিলেন, রিজিওনাল (মাইক্রোফাইন্যান্স) ম্যানেজার রাইয়ান রহমান রাবি, এরিয়া ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দ্বিজেন্দ্র লাল মণ্ডল, ইউনিট এক্সটেনশন অফিসার রাকিবুল হাসান, সিডিও সারোয়ার জাহানসহ অন্যরা।
সবার দেশ/কেএম




























