রাজনৈতিক বিভাজন ও যুদ্ধের শঙ্কা তীব্র
ইরানের পাল্টা আঘাতে কাঁপছে ইসরায়েল
মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ইরানের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। এ হামলার পর তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসপাতালগুলোতে নবজাতকদেরও ভূগর্ভস্থ নিরাপদ বাঙ্কারে সরিয়ে নেয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ পাল্টা আঘাত ইসরায়েলের জন্য একটি বড় কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর দেশটির ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—একদিকে কট্টরপন্থীরা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধের দাবি তুলছেন, অন্যদিকে একটি অংশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়, দেশটির গোয়েন্দা ও সামরিক মহল এই হামলাকে অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখছে। কিছুদিন আগে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ অভিযানের পর ধারণা করা হয়েছিলো, ইরান সরাসরি পাল্টা হামলার ঝুঁকি নেবে না। কিন্তু পরিস্থিতি উল্টে যায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর।
রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দুই নাগরিক নিহত হওয়ার পর ইরান তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে পাল্টা হামলা চালায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়, ফলে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘাতের দিকে গড়ায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলি মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা দেখা গেছে। প্রবীণ সাংবাদিক বেন ক্যাসপিট দাবি করেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, ইরানবিরোধী সাম্প্রতিক কৌশল কার্যত ব্যর্থ হয়েছে এবং ইসরায়েল এখন এক জটিল কৌশলগত সংকটে পড়েছে।
এদিকে ইসরাইলজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, জনসমাগম সীমিত করা হয়েছে এবং গণপরিবহন আংশিকভাবে চলাচল করছে।
সরকারের ভেতরে কট্টর অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ কয়েকজন মন্ত্রী ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইরানি হামলার জবাব আরও শক্তভাবে দিতে হবে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের ডানপন্থী নেতারাও কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিলেও মধ্যপন্থীরা সরকারকে দায়ী করছেন। বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দুর্বল নেতৃত্বের জন্য সমালোচনা করে বলেছেন, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশকে নতুন সংঘাতে ঠেলে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরানের হামলায় ইসরাইলি হাসপাতালে আহতদের ভীড়। ছবি: সংগৃহীত
সবার দেশ/কেএম




























