স্পেসএক্সের আইপিওতে ইতিহাস, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক
প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতের আলোচিত উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) তার সম্পদের পরিমাণকে ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অনুষ্ঠিত স্পেসএক্সের আইপিওতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। আইপিওর আগে ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিলো প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন ডলার। ওই সময় বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ছিলেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা লেরি পেজ।
ফোর্বস ওয়েলথের ডেপুটি এডিটর ম্যাট ডুরোট বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ যেখানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, সেখানে মাস্কের সম্পদ তার তিন গুণেরও বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে কেবল লেরি এলিসনের সম্পদই ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিলো।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটিতে তার মালিকানাধীন শেয়ারের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার। আইপিও-পরবর্তী বাজারমূল্য বৃদ্ধির ফলে তার মোট সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এবং স্পেসএক্সের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন ইলন মাস্ক। প্রযুক্তি খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
পরে ২০২২ সালে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া টুইটার, যা বর্তমানে এক্স নামে পরিচিত, ৪৪ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করেন। এর ফলে বিশ্বব্যাপী শত শত মিলিয়ন ব্যবহারকারীর কাছে সরাসরি পৌঁছানোর সুযোগ পান তিনি। রাজনীতি, অভিবাসন, সরকারি ব্যয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নানা বিষয়ে তার মন্তব্য প্রায়ই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
স্পেসএক্সের আইপিওর মাধ্যমে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়ে ইলন মাস্ক শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের নতুন রেকর্ডই গড়েননি, বরং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের জন্যও এক নতুন যুগের সূচনা করলেন বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স
সবার দেশ/কেএম




























