ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত ইরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (১০ জুন) সামরিক হামলার পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর হরমুজ সংলগ্ন ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
এর জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্যবস্তু করে। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তার মতে, কোনও ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, যে কোনও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য ন্যূনতম স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। কিন্তু বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে।
ইসমাইল বাঘেই আরও অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক সংঘাত ও সামরিক পদক্ষেপের কারণে আলোচনার পরিবেশ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে লেবাননকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনাও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইরান দীর্ঘ সময় নিয়েছে এবং এর জন্য দেশটিকে ‘মূল্য দিতে হবে’। তার এ মন্তব্যের পরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও সংকটের মুখে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























