হরমুজ ঘিরে ফের উত্তেজনা
শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানে নতুন মার্কিন হামলা
চলমান যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম দাবি করেছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হামলার হুমকি মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংযম বজায় রাখার কথাও উল্লেখ করেছে।
এ হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিলো।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বেশ কয়েকটি বিষয়ে তারা একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছেন। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে— এমন ধারণা না দেয়ার জন্যও সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। যদিও পরে ট্রাম্প আলোচকদের ধীরগতিতে এগোনোর নির্দেশ দেন বলে জানা যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর ব্যাপক বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
সর্বশেষ মার্কিন হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ হামলা চলমান শান্তি আলোচনা ও সম্ভাব্য সমঝোতার পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
সবার দেশ/কেএম




























