বহাল থাকল সাংবিধানিক অধিকার
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে ট্রাম্পকে আটকালো সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল রাখায় আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের সাংবিধানিক নাগরিকত্বের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকছে।
মঙ্গলবার দেওয়া এ রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে একটি বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।
সেই আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর বাবা বা মায়ের অন্তত একজন যদি মার্কিন নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে ওই শিশুকে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
তবে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেন।
রায়ের খসড়া প্রস্তুত করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। তিনি রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর (Fourteenth Amendment) কথা উল্লেখ করেন, যা গৃহযুদ্ধের পর দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর মুক্ত হওয়া আফ্রিকান-আমেরিকানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে সংযোজন করা হয়েছিল।
রায়ে বলা হয়, কোনো শিশুর মা-বাবা সাময়িকভাবে বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী সেই শিশু সংবিধান অনুযায়ী জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, নাগরিকত্ব তখনও এবং এখনও আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষের জন্য এ সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকের রায়ের মাধ্যমে সেই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতিই বহাল রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার পরিকল্পনা। তবে সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের ফলে সেই উদ্যোগ বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।
চলতি বছরে এটি দ্বিতীয়বার, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টে বাধার মুখে পড়ল। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের ঘোষিত ব্যাপকভিত্তিক বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাও আদালত বাতিল করে দিয়েছিল।
তবে একই দিনে আরেকটি মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন ট্রাম্প। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার (রূপান্তরকামী) নারীদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট।
আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রণীত দুটি আইনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের করা মামলার শুনানি শেষে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেয়েদের ক্রীড়া দলে অংশ নিতে হলে জন্মের সময় নিবন্ধিত লিঙ্গের ভিত্তিতেই অংশগ্রহণ করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন অঙ্গরাজ্যগুলো চাইলে মেয়েদের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত বা নিষিদ্ধ করার আইন কার্যকর রাখতে পারবে।
ট্রাম্প এ রায়কে নিজের প্রশাসনের জন্য ‘বড় জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের রায় তাঁর অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে বড় ধরনের আইনি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
সবার দেশ/এফও




























