নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২০৪
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্য থেকে এ সংখ্যা জানা গেছে।
বুধবার কাঠমান্ডুতে পঞ্চম দিনের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়াও চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু এলাকায় নিহতদের অস্থায়ীভাবে দাফন শুরু হয়েছে।
লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ১১৪টি লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জনের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।
নিখোঁজদের শনাক্ত করতে তাদের নিকটাত্মীয়দের দ্রুত ডিএনএ নমুনা জমা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কাঠমান্ডুর মহারাজগঞ্জে নেপাল পুলিশ হাসপাতালে অথবা নিকটস্থ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এসব নমুনা জমা দেয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও লাশ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও কাজ করছেন। ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
তারা ল্যাংটাং, চিলিমে ও আপার ত্রিশূলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলবিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে জমে থাকা কাদা ও বিশাল আকৃতির পাথর সরানোর কাজ করছেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারেও কাজ চলছে।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ৩৪টি দেশের প্রায় ৫৯০ জন বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং বেঁচে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার কাজও চলছে।
সবার দেশ/কেএম




























