ফেনীতে বিএনপির সভা শেষে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫
ফেনীর দাগনভূঞায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে জুতা, পানির বোতল ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং দুই গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের দাগনভূঞা আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাইস্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে দাগনভূঞা পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ইকবাল হোসেন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ রাব্বি এবং গণমাধ্যমকর্মী শাখাওয়াত টিপু ও ফখরুল ইসলাম রয়েছেন। আহত ইকবাল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষে নেতাকর্মীরা বিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় মহাসড়কের বিপরীত পাশে জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের সমর্থকেরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে এক পক্ষের একজন অপর পক্ষের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে পানির বোতল ও জুতা ছুড়ে মারেন। পরে অপর পক্ষ থেকেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও জুতা, বোতল এবং ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিলো। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা ফটিকের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আকবর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তিনি, তার স্ত্রী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিনা আকবর, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব তৌহিদুল আলম মানিক, রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঞা হুদন, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ইকবাল হোসেন সুজনসহ অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাকি বিল্লাহ ও সুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা এ ঘটনায় আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কাজী জামশেদুর রহমান ফটিক। তিনি বলেন, তিনি মৎস্যজীবী দলের একটি কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রাস্তার এক পাশে তাদের এবং বিপরীত পাশে অন্য পক্ষের কর্মসূচি চলছিল।
ফটিকের ভাষ্য, একপর্যায়ে এক পক্ষ থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দেয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরে নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত করা হলে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করেন।
তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তাদের পক্ষের রাব্বি, নাইমুর রহমান, রিয়াদ, হুমায়ুন আহমেদ ও রায়হানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সুজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সানজিদা মাহবুব বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সাতজন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। পরে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, তারা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা অবস্থায় হট্টগোলের শব্দ শুনতে পান। পরে বাইরে এসে সড়কে কিছু ইটপাটকেল পড়ে থাকতে দেখেছেন। পুলিশ আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে জানান তিনি। বিষয়টি দলের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতাদের জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো।
তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে আকবর হোসেন ও কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর এ বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নেয়।
কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচিও পালন করেছেন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসেও দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিলো।
সবার দেশ/কেএম




























