ভেতরে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেশটির এডেন শহরে অবস্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তবে তারা সবাই অক্ষত রয়েছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলার পর হতাহতের সংখ্যা বেড়ে চারজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে দুই নিরাপত্তারক্ষী নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিলো।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরয়ানি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক পোস্টে দাবি করেন, হুতি বিদ্রোহীরা এডেনে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। হামলার পর প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
দেশটির যুব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নায়েফ সালেহ আল-বাকরি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে জানান, হামলায় প্রাথমিকভাবে দুই নিরাপত্তারক্ষী নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সব সদস্য নিরাপদে রয়েছেন। হামলার পরও তারা এডেন ছেড়ে যাবেন না বলেও জানান তিনি।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের প্রাসাদটি ‘আল-মাশিক’ নামে পরিচিত। দেশটির রাজধানী সানা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেনকে অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করে। শহরটি ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক সাংবাদিক ঘটনাস্থল থেকে জানান, প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তারা জানতে পারেন, ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কমপ্লেক্সটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা নিয়ে প্রাথমিক ও পরবর্তী তথ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেনাবাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজন এবং আহতের সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে হুতি বিদ্রোহী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক বাহিনীগুলোর মধ্যে সংঘাত চলছে। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। ২০২২ সালে হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তী সময়ে সংঘাত ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এ হামলার ফলে ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে হুতি বিদ্রোহীদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সূত্র: এএফপি ও আল-জাজিরা
সবার দেশ/কেএম




























