Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:২০, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৫:২৭, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

জীবিকার তাগিদে জরায়ু বাদ দিচ্ছেন নারী শ্রমিকরা

জীবিকার তাগিদে জরায়ু বাদ দিচ্ছেন নারী শ্রমিকরা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মহারাষ্ট্রের আখখেতে কাজ ধরে রাখতে গিয়ে জরায়ু কেটে বাদ দেয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বহু নারী শ্রমিক। মাসিকের ব্যথা, গর্ভাবস্থা কিংবা অসুস্থতার কারণে একদিন কাজ বন্ধ রাখলেও মজুরি হারানোর পাশাপাশি গুনতে হয় জরিমানা। ঋণের বোঝা আর জীবিকা হারানোর ভয়ে অনেক নারী শেষ পর্যন্ত প্রজননস্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতাকে ঝুঁকিতে ফেলছেন। এমনকি অস্ত্রোপচারের পরও কারও কারও ব্যথা ও রক্তপাত বন্ধ হচ্ছে না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভারতের আখচাষ অঞ্চলের নারী শ্রমিকদের এমন কঠিন বাস্তবতা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, অমানবিক কর্মপরিবেশ, ঋণের চাপ এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় দুর্বলতার কারণে নারীরা এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

ভোর চারটা থেকে শুরু হয় কাজ

দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা রামনালে ভোরের আলো ফোটার আগেই কর্মদিবস শুরু হয় পূর্ণিমার। ভোর চারটার দিকে অস্থায়ী তাঁবু থেকে বেরিয়ে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি। একই তাঁবুতে থাকা অন্য নারী শ্রমিকেরাও পুরুষদের ঘুম থেকে ওঠার আগেই হাত-মুখ ধুয়ে দিনের কাজের জন্য তৈরি হন।

নিজেদের গ্রামে কাজের সুযোগ সীমিত থাকায় এবং আগের ঋণ শোধের চাপে এসব নারীকে বাড়ি থেকে পাঁচশ কিলোমিটারের বেশি দূরে গিয়ে কাজ করতে হয়। পরিবারের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে তাঁদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজে নিয়োজিত। তাঁদের অনেকেই দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করেন। এর বিনিময়ে দৈনিক মজুরি পান প্রায় ৪০০ রুপি। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে একটি দল হিসেবে কাজ করেন। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আখ কাটা, বহন করা এবং ট্রাকে বোঝাই করার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় তাঁদের। কাজের ফাঁকে বিশ্রামের সুযোগও খুব সীমিত।

বিশ্বের মোট আখ উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ ভারতে হয়। উৎপাদনের দিক থেকে ব্রাজিলের পরেই দেশটির অবস্থান। ভারতের আখ থেকে তৈরি চিনি বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের চিনি সরবরাহ করা হয় কোকা-কোলা ও পেপসিকোর মতো বহুজাতিক কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থায়।

আখ কাটার শ্রমিকদের বড় একটি অংশ মহারাষ্ট্রের বিদ জেলার বাসিন্দা। নিজ এলাকায় পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় জীবিকার তাগিদে তাঁদের মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়।

মাসিক ও অসুস্থতাও কাজে বিরতির কারণ হতে পারে না

নারী শ্রমিকদের জন্য আখ কাটার কঠোর পরিশ্রমই একমাত্র সমস্যা নয়। অস্থায়ী শিবিরগুলোতে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির অভাব তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। মাসিকের সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ বাড়ে।

কিন্তু শারীরিক কষ্ট হলেও কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। একদিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে মজুরি কাটা যায়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে শ্রম ঠিকাদারকে অতিরিক্ত অর্থও দিতে হয়। ফলে মাসিকের তীব্র ব্যথা, গর্ভাবস্থা এমনকি গর্ভপাতের পরও অনেক নারীকে কাজে যেতে হয়।

নারী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, কাজের পরিবেশ ও মজুরি কাঠামো এমনভাবে সাজানো যে অসুস্থতার কারণে বিরতি নিলেও শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা কিংবা বিশ্রামের সুযোগ না থাকায় অনেকে সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে গিয়ে জরায়ু অপসারণের কথা ভাবেন।

পূর্ণিমা বলেন,

কেউ যদি তাকে এ কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে পারতেন, তাহলে সেটি অনেক বড় সাহায্য হতো। অসহনীয় ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে তিনি জরায়ু কেটে বাদ দেয়ার কথা ভাবছেন।

তার ভাষ্য, কাজ চালিয়ে গেলে কষ্ট আরও বাড়বে। ভারী জিনিস তোলা বন্ধ করতে পারলে হয়তো পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতো। কিন্তু জীবিকা নির্বাহের জন্য এ কাজ ছাড়া তার সামনে অন্য কোনও উপায় নেই।

ঋণের চাপে বাধ্যতামূলক পরিশ্রম

মহারাষ্ট্রের বিদ অঞ্চলে আখ কাটা মৌসুমি কাজ। প্রতিবছর শ্রম ঠিকাদারেরা শ্রমিকদের একত্র করে চিনি কলগুলোর সঙ্গে কাজের ব্যবস্থা করেন। মৌসুমের শুরুতে শ্রমিকদের অগ্রিম অর্থ দেয়া হয়, যা স্থানীয়ভাবে দাদন হিসেবে পরিচিত। পরে সে অর্থ পরিশোধ করতে শ্রমিকদের পুরো মৌসুম কাজ করে যেতে হয়।

স্বামী-স্ত্রী মিলে কাজ করা শ্রমিকদের স্থানীয়ভাবে ‘কয়তা’ বলা হয়। প্রতিটি দম্পতিকে দিনে গড়ে অন্তত তিন টন আখ কাটার লক্ষ্য পূরণ করতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দম্পতি বা দলের সদস্যদের কাজের গতি কমে গেলে অন্যদের ওপরও চাপ পড়ে। কেউ অসুস্থ হয়ে কাজ করতে না পারলে তার ঘাটতি পূরণ করতে অন্যদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এ কারণে অসুস্থতার সময়েও কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

সবিতা নামের এক নারী শ্রমিক ২০২৫ সালের মার্চে অসহনীয় শারীরিক কষ্টের মধ্যে জরায়ু অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি জানান, ক্ষেতে অসুস্থ হলে সাহায্য করার মতো কাউকে পাওয়া যায় না। বিশ্রামেরও সুযোগ থাকে না।

সবিতা বলেন, পেটে প্রচণ্ড ব্যথা থাকায় ট্রাকে আখ বোঝাই করতে মই বেয়ে উঠতে পারতেন না। গত বছর কাজ করতে গিয়ে তিনবার পড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও অভিযোগ করার বা কাজ থেকে বিরতি নেয়ার সুযোগ পাননি।

পূর্ণিমাও জানান, আখ কাটার মৌসুমে তারা টানা চার থেকে পাঁচ মাস প্রতিদিন কাজ করেন। গত তিন বছর ধরে অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করার পর তিনিও জরায়ু অপসারণের কথা ভাবছেন। তবে অস্ত্রোপচারের খরচ মেটাতে তাঁকে নতুন করে ঋণ নিতে হবে।

পূর্ণিমার আক্ষেপ, নিজের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ অপসারণ করতেও তাকে ঋণ করতে হবে। তার মনে হচ্ছে, কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তার শরীরও যেন ঋণের ব্যবস্থার কাছে বন্দি হয়ে পড়েছে।

অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার নিয়ে উদ্বেগ

ভারতে অল্পবয়সী নারীদের জরায়ু অপসারণের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। নারী অধিকারকর্মী সঙ্গীতা চৌহান ও রাজনীতিবিদ ড. নীলম গোরহে এ বিষয়ে কাজ করছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ড. নীলমের একটি প্রতিবেদনে অপ্রয়োজনীয় জরায়ু অপসারণের উচ্চ হার নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর পর বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পায়।

সঙ্গীতা চৌহানের অভিযোগ,

অনেক নারীকে স্বল্প খরচে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দেয়ার পরিবর্তে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানে যথাযথ চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই কারও কারও অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকতে পারে।

গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ভারত সরকার ‘আশা’ নামে পরিচিত স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করেছে। এসব কর্মীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বকালীন পরিচর্যা এবং সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।

তবে সঙ্গীতা চৌহান দাবি করেছেন, তার সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন আশা কর্মী জরায়ু অপসারণের জন্য রোগী পাঠানোর বিনিময়ে অর্থ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। যদিও মহারাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আশা কর্মীরা দ্য ইনডিপেনডেন্টের কাছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওয়াদওয়ানি এলাকার আশা কর্মী গঙ্গা শেবন্তে বলেন, অল্পবয়সী নারীদের জরায়ু অপসারণের কথা তিনি শুনেছেন। তবে এসব অস্ত্রোপচার সরকারি হাসপাতালে হচ্ছে, নাকি বেসরকারি হাসপাতালে, তা নিশ্চিত নন।

রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠিয়ে অর্থ নেয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন গঙ্গা। তার দাবি, তিনি নিজে কখনও এ ধরনের কাজের বিনিময়ে অর্থ নেননি এবং নারীদের বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শও দেন না।

দ্য ইনডিপেনডেন্টের অনুসন্ধানে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পরস্পরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী শ্রমিকেরা, যাদের অনেকেই অস্ত্রোপচারের পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা পাচ্ছেন না।

অস্ত্রোপচারের পরও কমেনি যন্ত্রণা

জরায়ু অপসারণের পর সবিতার শারীরিক সমস্যার সমাধান হয়নি। অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস পরও তার রক্তপাত হচ্ছিলো এবং পেটের ব্যথা বেড়ে গিয়েছিলো। কাজ করাও আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়ে।

সবিতা বলেন,

চিকিৎসকদের বিশ্বাস করে তিনি অস্ত্রোপচারে রাজি হয়েছিলেন। তার ধারণা ছিলো, জরায়ু অপসারণ করলে সব যন্ত্রণা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পরে পুনে শহরে চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

অস্ত্রোপচারের আগের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি দেখতে চাইলেও তিনি সেগুলো পাননি বলে অভিযোগ করেন। সবিতার দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে সম্ভাব্য জটিলতা সম্পর্কে তাকে যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি।

এ অভিজ্ঞতা দেখায়, যথাযথ চিকিৎসাগত মূল্যায়ন, অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা এবং পরবর্তী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি। জরায়ু অপসারণ একটি বড় অস্ত্রোপচার। শুধু মাসিকের ব্যথা বা কাজের অসুবিধা এড়ানোর জন্য চিকিৎসকের যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।

শ্রমিকদের সুরক্ষায় উদ্যোগ, বাস্তবে কতটা পরিবর্তন

আখ কাটার শ্রমিকদের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারেরা দাবি করেন, তারা কাউকে জরায়ু অপসারণে বাধ্য করেন না। তবে অসুস্থতার কারণে ছুটি নেয়ার ক্ষেত্রে মজুরি হারানোর ঝুঁকি থেকেই যায়। ঠিকাদারদের ভাষ্য, চিনি কলগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আখ সরবরাহ করতে না পারলে ভবিষ্যতে কাজ পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে।

স্থানীয় ঠিকাদার আশরুবা দত্ত বলেন, তাদের আয় নির্ভর করে কারখানায় কত পরিমাণ আখ সরবরাহ করা যাচ্ছে তার ওপর। শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেলে অন্যদের দিয়ে সে ঘাটতি পূরণ করানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষিশ্রম ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। বিশেষ করে অসুস্থতার সময় ছুটি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত শৌচাগার, সুপেয় পানি এবং সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

২০১৯ সালে মহারাষ্ট্র সরকার বিদ জেলার ৮২ হাজার ৩০৯ জন নারী আখশ্রমিকের ওপর একটি জরিপ চালায়। জরিপে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়া এ অস্ত্রোপচার করা নারীদের ৪৫ শতাংশের বেশি পরবর্তী সময়ে শারীরিক বা মানসিক বিভিন্ন সমস্যা ও যন্ত্রণার কথা জানান।

জরিপের পর রাজ্য সরকার জরায়ু অপসারণের ঘটনা পর্যবেক্ষণ এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়।

২০২৫ সালের মার্চে বোম্বে হাইকোর্ট মহারাষ্ট্র সরকারকে শ্রমিকদের যথাযথ নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশ দেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে হালনাগাদ তথ্যসহ একটি প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেটি তখনও প্রকাশ করা হয়নি।

মাঠপর্যায়ের শ্রমিকদের দাবি, সরকারি উদ্যোগের পরও তাদের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। পূর্ণিমা ও সবিতা দুজনেই জানিয়েছেন, তারা সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি।

ব্যথার চিকিৎসায় বছরে খরচ ৫০ হাজার রুপি

পূর্ণিমার শারীরিক যন্ত্রণা দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। ব্যথার চিকিৎসায় এক বছরে তার প্রায় ৫০ হাজার রুপি খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। তারপরও স্থায়ী সমাধান পাননি।

পূর্ণিমা বলেন, গ্রামে ফিরে তাকে অস্ত্রোপচার করাতে হতে পারে। কিন্তু এর জন্যও নতুন করে ঋণ নিতে হবে। কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বাদ দেয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে—এ বাস্তবতা তাকে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

বিদ জেলার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা জেলা কালেক্টর বিবেক জনসনের সঙ্গে দ্য ইনডিপেনডেন্টের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে কোকা-কোলা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাডের সঙ্গে যৌথভাবে তারা শ্রমিকদের সুপেয় পানি, শৌচাগার, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, আরামদায়ক কাজের সরঞ্জাম এবং নারী স্বাস্থ্যসামগ্রী পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ উদ্যোগে ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

পেপসিকোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি দ্য ইনডিপেনডেন্টকে কোনও জবাব দেয়নি।

জীবিকা ও শারীরিক সুস্থতার মধ্যে প্রতিদিন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে পূর্ণিমার মতো নারী শ্রমিকদের। কাজ বন্ধ রাখলে ঋণ পরিশোধ ও পরিবারের ভরণপোষণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আবার কাজ চালিয়ে গেলে বাড়তে থাকে শারীরিক যন্ত্রণা। চিকিৎসা ও সামাজিক সুরক্ষার অভাবে তাদের সামনে জরায়ু অপসারণের মতো বড় অস্ত্রোপচারকেও জীবিকা টিকিয়ে রাখার উপায় বলে মনে হচ্ছে।

পূর্ণিমা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, অস্ত্রোপচার করাবেন, নাকি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করবেন। তার আশা, ব্যথা থেকে মুক্তি পেলে আবারও মাঠে কাজ করতে পারবেন এবং পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারবেন।

তথ্যসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

নেতানিয়াহুর গাড়িবহরে গাড়িবহরে হামলা, জেরুজালেমেই আক্রান্ত
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছয় নারী
জীবিকার তাগিদে জরায়ু বাদ দিচ্ছেন নারী শ্রমিকরা
এনসিপির নতুন কমিটি, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে হাসনাত-সারজিস
ঢাকা-দাম্মাম-রিয়াদ ফ্লাইট ফের স্থগিত
সৌদিতে দণ্ডিত আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইলো কনস্যুলেট
জাপানের ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাংলাদেশে
রূপগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণ
দিল্লিতে ৭০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদের উদ্যোগ, মসজিদেও নোটিশ
জুলাই স্বীকার, ক্ষমা চাইলেই আ.লীগের রাজনীতি: তথ্যমন্ত্রী
রেকর্ডের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারালো শ্রীলঙ্কা
সিসিইউতে সংকটাপন্ন মঈন খান, দেখতে গেলেন রিজভী
ভারতে পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন
ভারতে তিন খ্রিষ্টান পরিবারকে পূজা পালনে বাধ্য করার অভিযোগ
সাইবার হামলার শঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
বিকিনি পরতে অস্বস্তি হয়: রাশমিকা
সাজেকে গোলাগুলি, নিরাপদে ফিরলেন পর্যটকরা
‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত