থালাপতি বিজয়ের জনসভায় পদদলনে নিহত ৩৮, আহত অর্ধশতাধিক
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ুর কারুর জেলায় অভিনেতা ও রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগমের (টিভিকে) এক জনসভায় পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনার খবর দেশীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। কারুর জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেভিডসন দেবাসিরভাথাম বলেছেন, আহতদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আরও কিছু আহতকে আনার চেষ্টা চলছে। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই বিজয়ের দলের সমর্থক ছিলেন, যারা ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জনসভা শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন। জনসভায় বিজয় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে উপস্থিত হন।
পদদলনের খবর পেয়ে কারুর জেলা হাসপাতালে পৌঁছেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম সুব্রাহ্মনিয়ান। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন জেলা সচিবকে পরিস্থিতি নজরদারি করার নির্দেশ দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে স্টালিন লিখেছেন, পদদলিত হওয়া লোকদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিজয় আকস্মিকভাবে তার বক্তৃতা শেষ করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেয়া হয়।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনসমাগম এতটাই বেশি ছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় বিজয়ের দলের কর্মীরা শীর্ষ নেতাদের সতর্ক করলেও দুর্ঘটনা রোধ করা যায়নি। পরে দলের কর্মীরা পানির বোতল নিক্ষেপ করেন আহতদের সহায়তার জন্য।
পিটিআই জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স সংকটের মধ্যে পড়ে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জনসভায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় চেন্নাইয়ের ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে বিজয়ের দলের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে দাবি করেছে এবং থালাপতি বিজয়কে গ্রেফতারেরও দাবি জানিয়েছে।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর টিভিকে তাদের কর্মী ও সমর্থকদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ও আচরণবিধি জারি করে। তাতে বলা হয়, বিজয়ের গাড়ি বা গাড়িবহর অনুসরণ বা তাকে প্রকাশ্যে বরণের আয়োজন বন্ধ রাখতে হবে। গর্ভবতী নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের অনলাইনে অনুষ্ঠান দেখার পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো।
সবার দেশ/কেএম




























