যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা বিস্ফোরণমুখী
হরমুজে ফের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষ
পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে জড়িয়ে পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শঙ্কা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ইরানি বার্তা সংস্থা ফারসের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলতে থাকে। অন্তত এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ইরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় তাদের কয়েকজন নাবিক হতাহত হয়েছেন এবং কয়েকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী মিনাব কাউন্টির গভর্নর মোহাম্মদ রাদমেহের ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজকে জানান, হামলার পর নিখোঁজ পাঁচ নাবিকের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি চারজনকে উদ্ধারে এখনও অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মার্কিন হামলায় অন্তত ১০ জন নাবিক আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে হামলার সময় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে মেহের নিউজ। অঞ্চলটি হরমুজ প্রণালির খুব কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া জানায়, শুক্রবার ৮ মে ইরানের কয়েকটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দাবি করা হচ্ছে, এসব ট্যাংকার নৌ-অবরোধ ভেঙে চলাচলের চেষ্টা করছিলো। ফক্স নিউজের এক সাংবাদিকের বরাত দিয়ে আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, অন্তত একাধিক ইরানি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেয়নি, তবে সাম্প্রতিক এ সংঘর্ষে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনও সংঘর্ষ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























