তদন্তে সত্যতা মিললেও নীরব পাবনা জেলা প্রশাসন
ঈশ্বরদীতে ৫ কোটি টাকার সরকারি জমি জালিয়াতি
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলিতে সড়ক ও জনপথ (সিঅ্যান্ডবি) বিভাগের প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিস তদন্ত করে জালিয়াতির প্রমাণ পেলেও পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ:
অনুসন্ধানে জানা যায়, মুলাডুলি মৌজার এসএ ২নং খতিয়ানের ৩২ নং দাগের ২.২৫ একর ভূমির প্রকৃত মালিক সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু ১৯৭৭-৭৮ সালে স্থানীয় প্রভাবশালী মোঃ কামাল হোসেন মির্জা (পিতা- মৃত আফজাল হোসেন মির্জা) তৎকালীন মহকুমা প্রশাসককে বিভ্রান্ত করে জমিটি '১নং খাস খতিয়ান' ভুক্ত দেখিয়ে ১.০০ একর জমি নিজের নামে বন্দোবস্ত করে নেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সিঅ্যান্ডবি’র মালিকানাধীন জমি এভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ার কোনও আইনি সুযোগ নেই।
তদন্তে প্রমাণিত জালিয়াতি:
স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষে মোঃ এসকেন আলীর করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিস গত ০২/০৭/২০২৫ তারিখে (স্মারক নং-০৫.৪৩.৭৬৩৯.০০০.০০.০৩৫.২৫-) একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিঅ্যান্ডবি’র জমি বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারি শর্ত লঙ্ঘন করে অভিযুক্ত কামাল হোসেন মির্জা ওই জমি তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং জনপথের রাস্তায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, যার ফলে বর্তমানে চলাচলের কোনও রাস্তা অবশিষ্ট নেই।
দুদকের নির্দেশনা ও প্রশাসনের স্থবিরতা:
বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রধান কার্যালয় থেকে গত ০৬/০৩/২০২৫ তারিখে (স্মারক নং- ০০.০১.৭৬০০.৬৩৪.২৬.০০৩.২৪-৫৭৩) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক, পাবনাকে নির্দেশ দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে ভূমি অফিস তদন্ত সম্পন্ন করে জালিয়াতির সত্যতা নিশ্চিত করলেও রহস্যজনক কারণে জেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত এ অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল বা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেনি।
জনসাধারণের দাবি:
প্রভাবশালী এ চক্রের দাপটে এলাকাবাসী এখন চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। সরকারি ম্যাপে লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত রাস্তাটি দখল হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ অনুযায়ী অবিলম্বে এ অবৈধ বন্দোবস্ত বাতিল করে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হোক এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটি পুনরায় উন্মুক্ত করা হোক।
সবার দেশ/কেএম




























