বাসিলান উপকূলে মাঝরাতে ট্র্যাজেডি
ফিলিপিন্সে ফেরি ডুবে নিহত ১৫, নিখোঁজ ২৮
ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ফেরিডুবির ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২৮ জন। দেশটির বাসিলান প্রদেশের উপকূলে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু নিয়ে চলাচলকারী একটি ফেরি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতের পর ফেরিটি জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে দক্ষিণ সুলুর জোলো দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দেয়। যাত্রা শুরুর প্রায় চার ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই বিপদ সংকেত পাঠায় ফেরিটি। ফিলিপিন্সের কোস্টগার্ডের (পিসিজি) তথ্য অনুযায়ী, বাসিলান প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় এক নটিক্যাল মাইল দূরে ফেরিটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে মোট ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে তখন আবহাওয়া মোটামুটি ভালো ছিলো বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। প্রাথমিকভাবে বহু যাত্রী সাঁতরে কিংবা ভাসমান অবস্থায় কাছের বালুক-বালুক দ্বীপে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পরে কোস্টগার্ড ও উদ্ধারকারী দল তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে।
দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চলের কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ফেরি ছাড়ার আগে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেয়া হয়েছিলো এবং এতে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী ছিলো না। তবে কী কারণে হঠাৎ করে ফেরিটি ডুবে গেলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ফিলিপিন্সে প্রায়ই ফেরি ও নৌযান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। ঘন ঘন ঝড়, পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন জাহাজ এবং কখনও কখনও অতিরিক্ত যাত্রী বহন এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। গত শুক্রবার চীন যাওয়ার পথে একটি জাহাজ ডুবে দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হন এবং চারজন নিখোঁজ হন। এর আগে গত সোমবার আরেকটি নৌযান দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত ও নয়জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
সবার দেশ/কেএম




























