মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপটি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এর ফলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ও তার বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বিমানবাহী রণতরী ও সহগামী যুদ্ধজাহাজগুলো মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসেন, তবু তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন—সব বিকল্প এখনও বিবেচনায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সোশ্যাল মিডিয় এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানায়, আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপ বর্তমানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানে বিক্ষোভের সূচনা হয় ডিসেম্বরের শেষ দিকে, মূলত অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে। তবে জানুয়ারির ৮ তারিখ থেকে কয়েক দিনব্যাপী টানা সড়ক বিক্ষোভের মাধ্যমে তা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখে ইরানি কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন দমন অভিযান চালিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব প্রবল বিক্ষোভ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত টিকে রয়েছে। তবে ব্যবস্থাবিরোধী অনেকেই মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের পাশাপাশি বাইরের হস্তক্ষেপই পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য চালিকাশক্তি হতে পারে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, সহায়তা পথে রয়েছে। তবে চলতি মাসের শুরুতে তিনি সামরিক হামলার নির্দেশ দেয়া থেকে সরে আসেন।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের চাপের মুখে তেহরান আট শতাধিক পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান নিজেদের সক্ষমতার ওপর আত্মবিশ্বাসী।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, এ ধরনের একটি যুদ্ধজাহাজের আগমন ইরানি জাতিকে রক্ষার ক্ষেত্রে ইরানের দৃঢ়তা ও সংকল্পে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
সবার দেশ/কেএম




























