মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী, পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন তাদের বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করায় তেহরান সতর্ক করেছে, নতুন কোনও হামলা হলে তারা হাতে থাকা সবটুকু শক্তি দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করবে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এটি নিছক হুমকি নয়, বরং বাস্তবতা। সর্বাত্মক সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের সাধারণ মানুষের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এ মন্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায়, যেখানে তিনি বলেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করতে চায়, দেশটি ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে’।
ইরানের জেনারেল আবুলফজল শেকারচি জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতার ওপর আঘাতের সামান্যতম ইঙ্গিত পেলেই তারা শুধুমাত্র আক্রমণকারীর হাত কেটে দেবে না, পুরো অঞ্চলে মার্কিনদের কোনও নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না। এ পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইতিমধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে ভারত মহাসাগরে পৌঁছেছে। এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। যদিও রণতরীর সুনির্দিষ্ট গন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি, ভারত মহাসাগরে উপস্থিতি তেহরানের জন্য বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান অভ্যন্তরীণভাবে ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্যেও রয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সর্ববৃহৎ সরকারবিরোধী আন্দোলনে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি নিহত ও ২৬ হাজারেরও বেশি গ্রেফতার হয়েছে। তেহরান এ নিহতদের জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করছে।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বাইরের সামরিক হুমকির দ্বিমুখী চাপে তেহরান এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা যেকোনও মুহূর্তে বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
সবার দেশ/কেএম




























