Sobar Desh | সবার দেশ বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ৭ নভেম্বর ২০২৫

আপডেট: ১১:০০, ৭ নভেম্বর ২০২৫

সমন্বয়ে ভারত থেকে পলাতক আওয়ামী নেতারা

১৩ নভেম্বরকে ঘিরে বড় নাশকতার ছক আ.লীগের

১৩ নভেম্বরকে ঘিরে বড় নাশকতার ছক আ.লীগের
ছবি: সবার দেশ

১৩ নভেম্বর—এ দিনেই জানা যাবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা গণহত্যা মামলার রায় কবে ঘোষণা হবে। কিন্তু দিনটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তা মহলে তৎপরতা। 

নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এদিনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার নীলনকশা তৈরি করেছে। উদ্দেশ্য—বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা ও দেশে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা।

সূত্রগুলোর দাবি, এ পরিকল্পনার মূল সমন্বয় করা হচ্ছে ভারত থেকে, যেখানে পলাতক আওয়ামী নেতারা অবস্থান করছেন।

বিদেশ থেকে নাশকতা সমন্বয়

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ঢাকায় নাশকতা পরিকল্পনার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতের পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। তাকে সহযোগিতা করছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা, ‘এসবি’-এর সাবেক প্রধান ও পলাতক সাবেক অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম, এবং সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।

এছাড়া, সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমান, যিনি একসময় এসএসএফের মহাপরিচালক ও কিউএমজি ছিলেন, তিনিও এই সমন্বয়ে যুক্ত আছেন বলে জানা গেছে।

দিল্লি ও কলকাতায় আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের মাধ্যমে একটি ‘অপারেশন সেল’ চালু করা হয়েছে। এ সেলের মাধ্যমে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগ

ঢাকার ভেতরে ও বাইরে নাশকতার বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় রয়েছে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগের বিতর্কিত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তাদের দায়িত্ব বণ্টনও নির্দিষ্ট করা হয়েছে—

  • জাহাঙ্গীর আলম: গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ
  • লিয়াকত শিকদার: কাঁচপুর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত এলাকায় নাশকতা
  • সম্রাট: ঢাকার ভেতরে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের নেতৃত্ব

অস্ত্রচালান ও সহিংস প্রস্তুতি

গত মাসে ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অস্ত্রের একটি বড় চালান আটক করে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র ব্রিগেড। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, আরও চারটি অস্ত্রচালান দেশে ঢোকার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানায় চুরি হওয়া অস্ত্র এবং আওয়ামী সরকারের সময় মুজিববাদীদের নামে দেওয়া লাইসেন্সকৃত অস্ত্রও এ পরিকল্পনায় ব্যবহার হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে এসব অস্ত্র জমা দেয়ার সময়সীমা শেষ হলেও, অনেক অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি বলে সূত্রে জানা গেছে।

ডিজিটাল ট্রেনিং ও ক্যাডার প্রস্তুতি

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, রাজধানীর অন্তত পাঁচটি স্থানে ‘ডিজিটাল ট্রেনিং ও যোগাযোগ কৌশল’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বাছাইকৃত ক্যাডারদের। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনী সম্প্রতি মেজর সাদিকুল হক সাদেককে গ্রেফতার করেছে। গোপালগঞ্জে অনুকূল পরিবেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেরও প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দারা।

রাস্তায় বিশৃঙ্খলার পরিকল্পনা

১৩ নভেম্বরকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা অনুযায়ী,

  • ১২ নভেম্বর রাত থেকেই ঝটিকা মিছিল ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ
  • ১৩ নভেম্বর সকালে আদালতপাড়া ও সরকারি স্থাপনায় ককটেল বিস্ফোরণ
  • গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সমাবেশ ও সংঘর্ষ

লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। এ উদ্দেশ্যে ভারত ও ইউরোপের কয়েকটি মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে বলে সূত্রে দাবি।

নিরাপত্তা সংস্থার প্রস্তুতি ও সুপারিশ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা জানিয়েছে, ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরে সেনা ও বিজিবির যৌথ টহল পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, অন্তত হাসিনার মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত সেনা মোতায়েন বজায় রাখা উচিত।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য

নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন,

দেশের ভেতর বা বাইরে থেকে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই তৎপরতা প্রতিরোধ করতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আসলে আগামী নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করারও অপচেষ্টা।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন,

নাশকতা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ জোরদার করা হয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন