Sobar Desh | সবার দেশ বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২০, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

আগুনে পুড়ছে দেশ—আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

প্রশাসনিক ব্যর্থতায় দেশজুড়ে আওয়ামী তাণ্ডব

প্রশাসনিক ব্যর্থতায় দেশজুড়ে আওয়ামী তাণ্ডব
ছবি: সবার দেশ

দেশজুড়ে লাগাতার নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এখন জাতীয় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। বরগুনা ও সাতক্ষীরায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার পর থেকেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্র কি এখন তাণ্ডবকারীদের রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে?

গত কয়েক দিনে রাজধানী থেকে জেলা শহর পর্যন্ত একের পর এক অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন, ট্রেনে বগি পোড়ানো, গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, এমনকি পদ্মা সেতুর সামনে এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকে আগুন—সব মিলিয়ে সারাদেশ যেন এক অঘোষিত আতঙ্কে ডুবে গেছে।

বরগুনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি রেজাউল কবির রেজার নির্দেশে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরও প্রশাসনের নীরবতা চরম ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নির্দেশনা অনুযায়ী এক যুবক পেট্রল ঢেলে স্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, অন্যরা উল্লাস করছে—তবু প্রশাসন বলছে, তদন্ত চলছে।

একই সময়ে সাতক্ষীরায়ও একই কায়দায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরানো হয়। ঘটনাস্থলে পেট্রলের গন্ধ ও পোড়া অংশের আলামত পাওয়া গেলেও এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের চোখের সামনে এমন নাশকতা ঘটছে, অথচ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না—এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যর্থতা।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায়ও পরিস্থিতি অশান্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে টানা দুই দফা ককটেল বিস্ফোরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র ও শিক্ষকরা প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—এখন কি রাজধানীর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে?

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় মধ্যরাতে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের আসবাবপত্র ও নথিপত্র পুড়ে গেলেও ভল্ট অক্ষত থাকে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অল্প দূরেই অবস্থান করছিলো, কিন্তু আগুন লাগার পরও কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন এক্সপ্রেসওয়ে, সড়ক ও মহাসড়কে গাড়িতে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনাও এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধুমাত্র গত এক সপ্তাহেই অন্তত ২০টির বেশি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের ওপর পতিত রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা হারানোই এসব সহিংসতার মূল কারণ। তাদের মতে, সরকার–প্রশাসনের ভেতর ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের দৌরাত্ব, সমন্বয়হীনতা ও ভয়াবহ নিষ্ক্রিয়তা দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, 

এখন আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নয়, রাজনৈতিক নির্দেশই নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলেই দুর্বৃত্তরা দাপট দেখাচ্ছে, আর জনগণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

বরগুনা থেকে সাতক্ষীরা, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া—একই চিত্র সর্বত্র। প্রশাসনের নীরবতা যেনো তাণ্ডবকারীদের সাহস জুগিয়ে চলেছে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক প্রশ্ন—প্রশাসন যদি সত্যিই দায়িত্বে থাকে, তবে এমন আগুন কেনো প্রতিদিনই জ্বলছে?

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন