Sobar Desh | সবার দেশ কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৫:৫৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার সিএনজিচালক

তাজমিনের সঙ্গে কী ঘটেছিলো সে রাতে, চাঞ্চল্যকর তথ্য সুমনের

তাজমিনের সঙ্গে কী ঘটেছিলো সে রাতে, চাঞ্চল্যকর তথ্য সুমনের
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেতের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের চেষ্টা ও বাধার মুখে তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫)। ঘটনার পর চট্টগ্রামে পালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের মুঠোফোন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অটোরিকশা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করেন তাজমিন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রা শুরুর পর চালক তাকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে অন্য পথে নিয়ে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সড়ক ঘুরিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে তাজমিন বাধা দেন। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়।

পুলিশের ভাষ্য, ওই পরিস্থিতিতে তাজমিন পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি রক্ষা পাননি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন সুমন। এরপর তিনি পাশের একটি পুকুরে গোসল করেন এবং তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে মুঠোফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে ফেলে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যান তিনি।

তবে এসব তথ্য পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদভিত্তিক। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বর ধরে তদন্ত শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশের যৌথ দল অভিযুক্ত চালকের অবস্থান শনাক্ত করে।

একপর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাগমারা এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আদালতে উপস্থাপনের পরই বিষয়টি জানা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, ডিবির উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে মর্মান্তিক তথ্যগুলোর একটি সামনে এসেছে তার পরিবারের দেয়া বিবরণে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তাজমিন। এরপর থেকে তার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে শেষবারের মতো দেখা যায়। পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায় সে।

কিন্তু গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা আব্দুল আলিম বার্তাটি সময়মতো দেখতে পারেননি বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। পরদিন সকালে লালমাইয়ের ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনেরা সেখানে যান। পরে লাশটি তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন তারা।

মেয়েকে হারানোর ঘটনায় তার বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতো সে। কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো তাজমিন।

স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যাচ্ছিলো না। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত।

গত ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর এলাকার একটি ধানখেতের আইলের পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেয়।

একটি কিশোরীর এমন মৃত্যু পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতারে কথা জানালেও মামলার পরবর্তী ধাপে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং আদালতের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তাজমিনের পরিবারের জন্য এখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই প্রধান প্রত্যাশা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অপরাধের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং আইন অনুযায়ী বিচার সম্পন্ন করার দাবি উঠেছে।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

নেহা বোরাকে মুক্তি দিলো দিল্লি পুলিশ
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ, আহত ১৫
ভারতের জেন-জি আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের সংহতি
মোদি সরকারের পতন অনিবার্য: রাহুল গান্ধী
ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমানের ফ্লাইট অনির্দিষ্টকাল স্থগিত
মুক্তি পেলেন মমতা ও কেজরিওয়াল
আলম আরা মিনুর কণ্ঠে ‘কৃষ্ণ কালা’
বেনাপোলে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার, ঢাকায় আটক
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় শিশুসহ নিহত ৯
নাগরিক সেবার বেহাল, নগর পিতা ঘুমান!
দিল্লিতে যুদ্ধ পরিস্থিতি, হাজার হাজার বিক্ষোভকারী আটক
দিল্লিতে মমতা, কেজরিওয়াল ও পিনারাই আটক!
তাজমিনের সঙ্গে কী ঘটেছিলো সে রাতে, চাঞ্চল্যকর তথ্য সুমনের
ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা বললেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, সড়কে বিক্ষোভ