‘শাহে আলম’ রাজত্ব বগুড়ায়, প্রতিমন্ত্রীর পরিবারের নামে ৩ ইউনিয়ন
বগুড়ায় চলছে ‘শাহে আলম’ রাজত্ব। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকাশিত নতুন ইউনিয়ন পরিষদের গেজেটকে ঘিরে বগুড়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিবারের সদস্যদের নাম অনুসারে তিনটি নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে।
বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় নবগঠিত দুটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’। একই সঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে ‘মীর’ নামের আরেকটি ইউনিয়ন। তিনটি নামই এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘সীমান্ত’ নামটি প্রতিমন্ত্রীর ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্তের নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। অন্যদিকে ‘দিগন্ত’ নামটিও তার আরেক ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নাম থেকে নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে থাকা বিভিন্ন জীবনী ও পরিচিতিতেও প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নাম সীমান্ত ও দিগন্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
শুধু দুই ছেলের নামই নয়, শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের নাম ‘মীর’ রাখার বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, প্রশাসনিক ইউনিটের নামকরণে সাধারণত এলাকার ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি কিংবা জনমানুষের পরিচয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়। সেখানে কোনও ব্যক্তি বা তার পারিবারিক পরিচয়ের ছাপ থাকলে তা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলতে পারে।
জানা গেছে, দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে গঠিত ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত মৌজাগুলো হলো ভৈরা, মেঘাখর্দ্দ, আলমপুর, রহবল, সাওয়ালদহ, কৃষ্ণপুর, তালিবপুর ও বোয়ালমারী। মোট আটটি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।
পুনর্গঠিত প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী নবগঠিত স্বর্ণগ্রাম, সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়ন, মোকামতলা পৌরসভা এবং শিবগঞ্জ পৌরসভার সম্প্রসারিত অংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মৌজাগুলো নিয়ে আরও পাঁচটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করা হয়েছে।
তবে ইউনিয়নগুলোর নামকরণের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিলো কি না, অথবা তার পরিবারের সদস্যদের নাম অনুসরণ করে এসব নাম নির্ধারণ করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও কোনও ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
বিষয়টি জানতে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের একটি বিষয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার কিছুটা সত্যতাও রয়েছে। তবে আমার মনে হয় না প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তিনি জানলে এমন সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিতেন বলে আমার বিশ্বাস হয় না। অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে বলেও আমার জানা নেই। বিষয়টি শুনে আমি নিজেও বিস্মিত হয়েছি।
রাষ্ট্রীয় গেজেটে অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের এ ঘটনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত, যাতে প্রশাসনিক কাঠামোর নামকরণ নিয়ে কোনও ধরনের বিতর্ক বা প্রশ্নের অবকাশ না থাকে।
সবার দেশ/কেএম




























