Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৩২, ২২ জুন ২০২৬

আপডেট: ২১:৩৪, ২২ জুন ২০২৬

সংসদে বিএনপির এমপি জিএম সিরাজ

‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের নয়’

‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের নয়’
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কখনও বিচ্ছিন্ন হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। তিনি বলেছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেট আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে জিএম সিরাজ বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতায় ভারত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। তাই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, তাদের মধ্যে ডিভোর্সও হতে পারে। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিবেশী সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে কখনও অস্বীকার করা যায় না। ভারতও বাংলাদেশকে অস্বীকার করতে পারবে না, বাংলাদেশও ভারতকে অস্বীকার করতে পারবে না।

বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, দুই দেশের জনগণের স্বার্থেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেন কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উভয় দেশকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংসদে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। জিএম সিরাজ বলেন, নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাব্যিক ভাষায় কথা বলেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, ওই বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং ভারতবিরোধী নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের ‘পুশইন’ বা সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে জিএম সিরাজ বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের হৃদয় জয় করুন। দুই দেশের জনগণের মধ্যে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলুন। তবেই প্রকৃত বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ভারতবিরোধিতা কিংবা ভারতে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব—কোনোটিই কাম্য নয়। বরং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির এ এমপি বলেন, সীমান্তে ‘পুশইন’ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তপথে মাদক প্রবেশও রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদক আজ আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি যুবসমাজ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই এই সর্বগ্রাসী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সংসদে জিএম সিরাজের এ বক্তব্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

বিক্রি ও মৃত্যুর হিসাব বাদ দিয়েও কম ৩টি, কোথায় গেলো হরিণ?
এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ
হেফাজতের নিষিদ্ধের দাবি অগণতান্ত্রিক ও অন্যায্য: হেযবুত তওহীদ
দাবানল নেভাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ২ পাইলট নিহত
বন্ধু হলে বাংলাদেশের কিলারকে আশ্রয় দিয়েছেন কেনো?—ভারতের উদ্দেশে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন
কাজী জেসিনের নিয়োগে ত্রুটি, প্রজ্ঞাপন সংশোধনের সিদ্ধান্ত
কসোভোর প্রধানমন্ত্রীকে ডিম ছুড়লেন বিরোধী আইনপ্রণেতা
‘গুপ্তবাহিনী’ আবারও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, জনগণই ব্যবস্থা নেবে: প্রধানমন্ত্রী
অলি আহমদকে প্রার্থী করে জামায়াতের বড় রাজনৈতিক বার্তা
সরকারবিহীন রাষ্ট্রের রুদ্ধশ্বাস চারদিন: ক্যান্টনমেন্ট থেকে বঙ্গভব
রোনালদোর বিয়ের গুঞ্জনে ভক্তদের হুলুস্থুল!
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির প্রাণহানি
আলেমদের সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত
হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মানা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পথ নেই: ইরান
প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও জিয়া নেই কেনো—জবাব দিলেন জামায়াত আমির
দক্ষিণ সুদান ও আবেইতে ৫ দিনের সফরে সেনাপ্রধান
বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানির খবর ‘অসত্য ও কাল্পনিক’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাঠে জামায়াত, রোববার চূড়ান্ত হবে প্রার্থী
সরকারবিহীন রাষ্ট্রের রুদ্ধশ্বাস চারদিন: ক্যান্টনমেন্ট থেকে বঙ্গভব