পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে উঠছে নদী
তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই—নিম্নাঞ্চলে বন্যা আতঙ্ক
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আবারও বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে তিস্তা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, আর কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাদের আবাদি জমি নিয়ে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। পানি আরও বাড়তে থাকলে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমন ধান, সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
পানির প্রবল চাপ সামাল দিতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের সবকটি, অর্থাৎ ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের মাধ্যমে নদীর চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অনেকেই গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালু করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
সবার দেশ/এমকেজে




























