সতর্কতা সিলেট-সুনামগঞ্জেও
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উত্তরের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলাসহ সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া আগামী পাঁচ দিন ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার এবং মারকুলি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমেছে, তবে আগামী তিন দিনে আবারও পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা ওই অঞ্চলেও জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে।
এ ছাড়া ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সবার দেশ/কেএম




























