৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা, ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস
ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট অঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। ফলে সেখানে বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অন্যদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটির কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও শেষ হয়নি। চট্টগ্রামের তিন উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় আট লাখ মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছেন।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (লালমনিরহাট), তারাপুর ও হরিপুর (গাইবান্ধা) পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া আত্রাই নদীর নওগাঁ এবং ছোট যমুনা নদীর নওগাঁ পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।
সিলেটে কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল থাকতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোয় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জোয়ারের আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান বলেন, উজানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা অববাহিকার নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পুনরায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরের ডিমলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























