Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:২৬, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অটোরিকশায় কিউআর কোড, হবে ডিজিটাল ট্র্যাকিং

অটোরিকশায় কিউআর কোড, হবে ডিজিটাল ট্র্যাকিং
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ করে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থান অক্ষুণ্ন রেখেই যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি অটোরিকশায় কিউআর কোড যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি যানবাহনের তথ্য একটি নির্দিষ্ট নম্বরের অধীনে সংরক্ষণ করা হবে। এতে একই নম্বর ব্যবহার করে অবৈধভাবে একাধিক অটোরিকশা চালানোর সুযোগ থাকবে না।

তিনি জানান, অটোরিকশা খাতকে পুরোপুরি বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও যাত্রীসেবা—দুই দিকই বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পরিবেশদূষণ কমাতে প্রচলিত লেড-এসিড ব্যাটারির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করে অটোরিকশা চলাচলের ব্যবস্থাও করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইক ও তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান গ্রাম ও শহরের পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম খরচে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ থাকায় এসব যান সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে। একইসঙ্গে চালক, গ্যারেজ শ্রমিক, যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী ও চার্জিং সেবাদাতাদের নিয়ে বড় ধরনের অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।

তবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব যানবাহনের বিস্তার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার রয়েছে। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করছে। অথচ সারাদেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি।

তিনি আরও জানান, শুধু ঢাকা শহরেই আনুমানিক ৪৮ হাজার অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এসব স্থানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার কারণে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে আটক অটোরিকশা ডাম্পিংও করা হচ্ছে।

এ ছাড়া অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধে ডিএমপি, ডেসকো ও ডিপিডিসির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট শনাক্ত করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

সরকারের নতুন নীতিমালায় একদিকে অটোরিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে চালকদের জীবিকা ও যাত্রীদের স্বল্পমূল্যের পরিবহনসেবা অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কিউআর কোড, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, নির্দিষ্ট রুট ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারের মাধ্যমে এ খাতকে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ: