Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:১২, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন

উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরউদ্দিন

উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরউদ্দিন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী। এর মধ্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। আর দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তারা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থিতা সামনে রেখেই তাদের এ সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চে দলটি জানিয়েছিলো, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট না করে এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। সে সময় ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করার কথা ভাবা হয়েছিলো।

তবে গত ছয় মাসে দলের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদকে মেয়র প্রার্থী করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সে সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই দুজন নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী। তিনি নির্বাচনে জয়ী না হলেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেন। মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ভোট পেলে নাসীরুদ্দীন পান ৫৪ হাজার ভোট।

ওই নির্বাচনের সময় নাসীরুদ্দিন ঢাকা-১৮ আসনের ভোটার ছিলেন। ফলে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হলেও নিজেকে নিজে ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি তিনি। এবার ঢাকা দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়ে স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থিতার পথ তৈরি করলেন এনসিপির এ নেতা।

অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে কোনও আসনে প্রার্থী করেনি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট। পরে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এ ছাত্রনেতা।

তবে সোমবার সে অবস্থানও বদলে গেলো। দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার এলাকা ছেড়ে তিনি ঢাকা উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তরে তার অবস্থান ভালো। অন্যদিকে দক্ষিণে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীর অবস্থান তুলনামূলক ভালো। এ হিসাব থেকেই ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিনি প্রার্থী হবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত দল নেবে। এনসিপি সর্বাত্মকভাবে এবং এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের পরিচিত ও জনপ্রিয় নেতাদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীও প্রার্থিতার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, তিনি নির্বাচন করবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে, তিনি যেন ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী হন। এ ছাড়া আগে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও তিনি দক্ষিণের ওই এলাকায় ভোটার হয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানও এনসিপির হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও জোট হবে না। ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকরা নিজ নিজ প্রতীকে ও নিজস্বভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সমঝোতা বা জোট হতে পারে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে বাছাই করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলও ঢাকার দুই সিটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলে প্রভাব ফেলছে। ঢাকা উত্তরের অন্তর্ভুক্ত আটটি সংসদীয় আসনের চারটিতে জয় পেয়েছিলো জামায়াত। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণের সাতটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জয় পায় দলটি।

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তিনি এরই মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন। তবে কোনও কারণে সিটি নির্বাচন না হলে তাকে সংসদীয় রাজনীতিতে রাখার সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা আবু সাদিক কায়েমকে তার নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। ফলে ঢাকা দক্ষিণের আসনটি শরিকদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে দলটির আগ্রহ কম। এনসিপিও এ রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখে নিজেদের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য এখনও কয়েক মাস সময় রয়েছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনের এখনও আট থেকে দশ মাস সময় বাকি। তফসিল ঘোষণার পরই পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

জোটসংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই সরকার ও সরকারি দলের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার বা শক্তি প্রয়োগ করে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করবে রাজনৈতিক দলগুলো। এরপর পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোথাও জোট হবে কি না বা কার সঙ্গে সমঝোতা করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ: