রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার প্রস্তাব সাংবাদিক নেতাদের
সংবিধান সংশোধনে ফের গণভোটের উদ্যোগ
জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ নিয়ে নতুন করে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সংসদে সংশোধনী বিল পাসের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সংবিধান থেকে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বাদ দেয়ার প্রস্তাবও এসেছে।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় নূরুল কবীর ও কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার পক্ষে মত দেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগব্যবস্থা নিয়েও একাধিক প্রস্তাব উঠে আসে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সংবিধান সংশোধন বিল তৈরি হবে এবং আগামী বছরের প্রথম অধিবেশন অর্থাৎ জানুয়ারি অধিবেশনে বিলটি সংসদে উত্থাপনের আশা করা হচ্ছে।
গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর যেসব অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে গণভোট প্রয়োজন হবে, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সেগুলো নিয়ে জনগণের মতামত নেয়া হবে।
তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধানসহ আরও দুটি অনুচ্ছেদকে গণভোটের আওতায় রাখার প্রস্তাব বিএনপির পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও সংসদ এসব বিধান পরিবর্তন করতে চাইলে জনগণের অনুমোদন নেয়ার বিধান রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























