স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা; রাড্ডা সেন্টারকাণ্ডের পর প্রধানমন
মিষ্টির পদত্যাগ, শূন্য হলো সংরক্ষিত নারী আসন
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মিষ্টি নিজেই স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করেছে।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর অবশেষে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার সংসদীয় আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করে।
সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফেরদৌসী আহমেদ ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পদত্যাগ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ মহিলা আসন-২৩ আসনটি সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই তারিখেই শূন্য হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরই পদত্যাগ
মিষ্টির পদত্যাগের আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলচেষ্টার ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসার পরই এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এরপর দুপুরে সংসদ ভবনে যান মিষ্টি। স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি সংসদীয় কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ান।
এর আগে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লেও পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি মিষ্টি। পরে তার পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
রাড্ডা সেন্টারকাণ্ডে আলোচনায় মিষ্টি
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে একটি দল সেখানে হামলা চালিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কয়েকটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা ও অন্যান্য মালামাল লুটের অভিযোগও ওঠে। পরে সেখানে একটি সমিতির সাইনবোর্ড টাঙানো হয়।
ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে। সে আলোচনায় মিষ্টির নামও উঠে আসে। তবে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন।
মাত্র পাঁচ মাসের সংসদীয় জীবন
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি চলতি বছরের মে মাসে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। বিএনপির মনোনয়নে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হন।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। দলগুলোর সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যার অনুপাতে এসব আসন বণ্টন করা হয়। বিএনপির মনোনয়নে এবার ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
শপথ নেয়ার প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই পদত্যাগ করতে হলো মিষ্টিকে।
এখন কী হবে শূন্য আসনটির?
মিষ্টির পদত্যাগের ফলে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এ আসনে পরবর্তী সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে পদত্যাগের কারণে মিষ্টি ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সবার দেশ/এমকেজে




























