Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৩১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহারে কী শাস্তি?

লাইসেন্স বাতিল থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড—অপরাধের ধরন অনুযায়ী রয়েছে বিভিন্ন দণ্ডের বিধান।

বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহারে কী শাস্তি?
ছবি: সংগৃহীত

বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই ইচ্ছামতো অস্ত্র বহন, প্রদর্শন বা ব্যবহার করার অধিকার পাওয়া যায় না। লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন, বেআইনিভাবে অস্ত্র বহন কিংবা অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কারাদণ্ড, জরিমানা এবং অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো পরিণতি হতে পারে।

বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এবং সরকারের জারি করা সংশ্লিষ্ট নীতিমালা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫’ প্রকাশ করে। ফলে লাইসেন্স গ্রহণ, নবায়ন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বশেষ নীতিমালা এবং লাইসেন্সে উল্লেখিত শর্ত অনুসরণ করা জরুরি। 

অস্ত্রের অপব্যবহারে কী শাস্তি?

অস্ত্র আইন, ১৮৭৮-এর বিভিন্ন ধারায় অস্ত্রের অবৈধ দখল, বহন ও লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের জন্য পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিধানগুলো হলো—

  • লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ: অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, অন্য কোনো কঠোর দণ্ডের বিধান প্রযোজ্য না হলে লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। 
  • অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বহন বা দখলে রাখা: অস্ত্র আইনের ১৯ ও ১৯এ ধারায় নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধের জন্য কঠোর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ১৯এ ধারার আওতাভুক্ত পিস্তল, রিভলভার, রাইফেল, শটগান বা অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত নির্দিষ্ট অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। কোন ধারা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে অপরাধের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট আইনি শর্তের ওপর। 
  • হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা বা বহন: অস্ত্র আইনের ২০এ ধারায়, হত্যার অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন বা দখলে রাখার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইনে বর্ণিত উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতি প্রমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। 

এখানে উল্লেখ্য, শুধু অস্ত্র প্রদর্শন করলেই প্রতিটি ঘটনায় একই শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। ঘটনার পরিস্থিতি, ব্যবহারের উদ্দেশ্য, লাইসেন্সের শর্ত এবং অন্য কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না—এসব বিবেচনায় নিয়ে প্রযোজ্য আইন নির্ধারণ করা হয়।

লাইসেন্স বাতিল হতে পারে কখন?

অস্ত্র আইন, ১৮৭৮-এর ১৮ ধারায় আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের বিধান রয়েছে। জনশান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে আইন অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত শর্তে এ ব্যবস্থা নিতে পারে। একইভাবে অস্ত্র আইনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হতে পারে। 

অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি বৈধ লাইসেন্সের অধিকারী হলেও তার আচরণ জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে লাইসেন্সের বৈধতা ও অস্ত্র রাখার অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

লাইসেন্সধারীদের যেসব নিয়ম মানতে হবে

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র বহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে লাইসেন্সে উল্লেখিত শর্ত এবং প্রযোজ্য আইন মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে—

  • লাইসেন্সে অনুমোদিত সীমা ও পদ্ধতির বাইরে অস্ত্র বহন করা যাবে না।
  • অস্ত্র প্রদর্শন করে কাউকে ভয় দেখানো বা বেআইনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও জননিরাপত্তার বিধান অনুসরণ করতে হবে।
  • লাইসেন্সের মেয়াদ, নবায়ন এবং অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
  • অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের দখল ও জমা দেয়ার বিষয়ে আইনগত নির্দেশনা মানতে হবে।

অস্ত্র আইনের ১৩ ধারায় লাইসেন্সের অনুমোদিত সীমা ও পদ্ধতি অনুযায়ী অস্ত্র বহনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই বৈধ লাইসেন্স থাকা মানেই সব পরিস্থিতিতে অস্ত্র বহন বা ব্যবহারের অবাধ অনুমতি নয়। 

অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা লাগে?

বাংলাদেশে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। আবেদনকারীর যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আর্থিক ও কর-সংক্রান্ত শর্ত এবং আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া জানতে ২০২৫ সালের নীতিমালা দেখা প্রয়োজন। 

এ বিষয়ে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে আবেদন করা উচিত।

আইন মেনে অস্ত্র ব্যবহারই দায়িত্বশীলতার পরিচয়

আগ্নেয়াস্ত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজনে লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হলেও এর অপব্যবহার ব্যক্তি ও জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই লাইসেন্সধারীদের আইন ও নির্ধারিত শর্ত মেনে চলা অপরিহার্য। একই সঙ্গে অস্ত্রের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে ঘটনার প্রকৃতি অনুযায়ী তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সবার দেশ/এমকেজে

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ দেশের সন্তান: প্রধানমন্ত্রী
ইতালিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১৪১ পুলিশ আহত
রাষ্ট্রপতির বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার ও ব্যাখ্যা দাবি জমিয়তের
শৈশবের পূজার স্মৃতি আজও অমলিন মন্দিরার
ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫৩ সেনা
কক্সবাজারে প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে ডাকাতি, লুটের শিকার ৬০ যানবাহন
যশোর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন যেন দুর্বোধ্য ধাঁধা!
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১৫ হাজার কেজি লাল চিনি জব্দ
কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা ও দোয়া
লাইভে প্রার্থনার সময় ক্রুশ ভেঙে যাজকের মৃত্যু
ইশরাকের স্ত্রীর রহস্যজনক পোস্ট, উদ্ধৃতি মার্টিন লুথার কিংয়ের
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের অপেক্ষায় দেশবাসী: নাহিদ ইসলাম
বনানী থেকে ফের গ্রেফতার দিলীপ আগারওয়ালা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা, ফাঁদে পড়লেন ইশরাক: নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী
‘গুজব’ বলার পরও পদত্যাগ করলেন ইশরাক
বাংলাদেশে সৌহার্দ্যপূর্ণ দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে: দিনেশ ত্রিবেদী
অভিবাসীদের ঘৃণায় জ্বলছে ফ্রান্স: ট্রাম্প
সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী